• বুধ. এপ্রিল ২২nd, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে হবে: ওসি দিপু

মার্চ 28, 2020


আজ মার্চ মাসের ২৮ তারিখ । সারাদিন অন্তত ৪/৫ শত ফোন এসেছে সকল ফোন গুলিই ছিল দোকান খোলা কেন? মানুষ বাইরে কেন? আপনারা কেন এগুলি দেখছেন না? ইতালি ফেরত নাগরিক কেন ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় কেন ক্রাম বোর্ড খেলা হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি জবাবদিহি মূলক প্রশ্ন। একজন সচেতন শিক্ষিত নাগরিক আমাকে ফোন দিয়ে বললেন ওসি সাহেব লোকজনের জন্য হাঁটা যাচ্ছেনা দেখবেন প্লিজ। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম জনাব আপনি কেন বাহিরে এসেছেন তিনি উত্তর দিলেন এই একটু এসেছি আরকি। সত্যিই আজ অনেক জায়গায় দোকান খোলা ছিল অন্যদিনের থেকে বেশি । মানুষও অনেক বেশি চলাফেরা করছে কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য কারো সাথে শক্তি প্রয়োগ করেননি খারাপ আচরণ করেননি। ভালোভাবে সবাইকে বলেছি ভাই ঘরে যান দোকান বন্ধ করেন বাহিরে কেন আসছেন কিন্তু কেউই কর্ণপাত করেনি কারণ শক্তি প্রয়োগ হয়নি। আমি কোন নাগরিকের সাথে শক্তি প্রয়োগ বা খারাপ আচরণ করে সমালোচনার পাত্র হতে চাই না তবে একটি কথা বলতে চাই আমিও এ দেশের একজন নাগরিক কোন রকম প্রটেকশন ছাড়াই আমরা যেভাবে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেটা আপনারা দেখেছেন। আমি আশুলিয়া থানার ব্যারাকে থাকি এখান থেকে আমার বাসা উত্তরা যেতে মাত্র 10 মিনিট লাগে আমি আজ ৮দিন আমার বাসায় যাই না কারণ আমার নিরপরাধ স্ত্রী সন্তানদের অরক্ষিত করার । ঝুঁকির মধ্যে ফেলানোর কোন অধিকার আমার নেই।।
আমাকে মানুষের মধ্যে থাকতে হয় তাই শঙ্কায় আমি আমার পরিবারের নিকট যাই না। ইতালি ইউরোপ ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য থেকে যেসব নাগরিকরা এসেছেন তাদের প্রত্যেকের বাড়ি আমার সহকর্মীরা এবং আমি নিজেও একাধিকবার গিয়েছি অত্যন্ত সম্মানের সাথে তাদের অনুরোধ করেছি ভাই ঘরে থাকেন কিন্তু তারা কি কেউ কথা রেখেছে অনেকেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন রীতিমতো। অসহায় প্রতিবেশীরা আমাকে ফোন দিচ্ছেন ওসি সাহেব ইতালি প্রবাসী কেন ঘোরাফেরা করছে কেন দেখেন না। ভাই আমিতো অনেকবার বলেছি এখন দরকার শক্তি প্রয়োগ। বাধ্য করা ছাড়া তিনি কখনো ঘরে থাকবেন না। আমার একজন অফিসার এক অবাধ্য ইতালি প্রবাসীকে জোর করে ঘরে ঢুকিয়ে ঘরে তালা দিয়ে তার মায়ের কাছে চাবি দিয়ে এসেছেন সেই থেকে তিনি জ্বরে আক্রান্ত। যেটা তিনি ফেসবুকে লিখেছেন। তিনি হোম করেন টাই নে আছেন ।আমরা তো ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি কতিপয় প্রবাসী কেন দেশের সকল নাগরিকদের বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন?
মনে রাখা উচিত ভাইরাসটি চীনের শুধু একজন নাগরিকের হয়েছিল সেখান থেকে সারা পৃথিবীর প্রায় 200 টি দেশের হাজার হাজার লোক আক্রান্ত কত লোক মারা গিয়েছে আপনারা নিজেরাও দেখছেন। এটা কোন সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় নয় যেটা দুর্বল হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের একটা রাজ্য উড়িষ্যা হয়ে চলে যাবে। এটা আস্তে আস্তে বাড়বেই। ইতিহাস তাই বলছে এখনই যদি বাহিরে ঘোরাফেরা করা অবাধ্য নাগরিকদের ঘরে থাকতে বাধ্য করা না হয় ভবিষ্যতে খুব ভালো কিছু আশা করছে বলে আমার মনে হয় না। রাষ্ট্র যখন করেন টাইন এর জন্য বাড়ি প্রস্তুত করতে যাচ্ছেন তখনই এলাকার লোকজন সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বাধা দিচ্ছেন। আক্রান্ত লোকদের রাখার জন্য হসপিটাল প্রস্তুত করতে গেলেও বাধা আসছে। আগামী দিনে যদি কেউ আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাদের জন্য কবরস্থান প্রস্তুত করতে গেলেও বাঁধা আসছে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন একজন লোক মারা যাক আমি চাইনা তবে ইতিহাস সেটা বলছে না মৃত্যু যখন শুরু হবে তখন যেন বুদ্ধিমানেরা না বলেন সরকার কেন আগে থেকেই কবরস্থান ঠিক করে রাখেনি? ভয়ঙ্কর এই ভাইরাসের পরিসমাপ্তি শুধুমাত্র প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কারের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটতে পারে যেটা হয়তো আল্লাহ একদিন আমাদের দিবেন ক্ষমতা।এর আগে আমাদের সকল প্রস্তুতি রাখা উচিত ইতিহাস তাই বলে আমেরিকা ব্রিটেন ইতালি স্পেন চায়না পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে আমার অনেক আত্মীয় স্বজন থাকেন তাদের কাছে শুনেছি কি ভয়ংকর দিন তারা পার করছে। বাংলাদেশের মানুষের মত এত কোমল হৃদয়ের মানুষ পৃথিবীতে আছে কিনা জানিনা কোন গরীব মানুষ ঘর থেকে বাহির না হতে পারলে না খেয়ে মারা যাবে এটা আমি বিশ্বাস করিনা। প্রতিবেশীরাই তাদের খাবার পৌঁছে দেবে ইতিমধ্যে অনেকে দিচ্ছেন ও । এখনই যদি অবাধ্য জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ করা না যায় আমাদের জন্য সামনে ভয়ঙ্কর কিছু আশা করছে। এখন দরকার শুধু কঠোর হওয়া প্রয়োজন এ নির্মম হওয়া। কারণ দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে এটাকে কোনভাবেই তাচ্ছিল্য করে সংক্রমিত হতে দেওয়া যাবে না।।

লেখকঃ শেখ রিজাউল হক দিপু
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আশুলিয়া থানা, ঢাকা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments