
আগামী ৩ ডিসেম্বর এশিয়া, আমেরিকা ও ওশেনিয়া—তিনটি মহাদেশে একই সঙ্গে মুক্তি পাবে চলচ্চিত্র ‘মিশন এক্সট্রিম’। বাংলাদেশের দর্শকের সঙ্গে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডের দর্শকেরাও সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাবেন।
শনিবার দুপুরে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানিয়েছে সিনেমাটির প্রযোজনা সংস্থা কপ ক্রিয়েশন।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ছাড়াও পর্যায়ক্রমে আরও ১১টি দেশে সিনেমাটি মুক্তি পাবে। ছবিটি প্রদর্শনীর জন্য দেশের বাইরে বুকিং নেওয়া শুরু হয়েছে। দেশের বাইরে ছবিটি পরিবেশনার দায়িত্বে আছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়েস্কোপ ফিল্মস এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডভিত্তিক বঙ্গজ ফিল্মস।
বায়েস্কোপ ফিল্মস থেকে জানানো হয়েছে, নিউইয়র্কে ‘মিশন এক্সট্রিম’-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে ৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে। জ্যামাইকা মাল্টিপ্লেক্স সিনেমাসে ৩ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছবিটির মোট ২৭টি শো চূড়ান্ত করা হয়েছে।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো, মিয়ামির অদূরে ওয়েস্ট পামবিচে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে মুক্তি পাবে ডালাস, অস্টিন, হিউস্টন, ভার্জিনিয়ার কয়েকটি শহর; ওয়াশিংটন ডিসি, বোস্টন, নিউ জার্সি, আটলান্টা, ফিনিক্স, সিয়াটল, পোর্টল্যান্ড, ডেট্রয়েট, সাক্রামেন্টো, রিভারসাইডে এবং প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যালবানি ও আলাবামার হান্টসভিলে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুঠোফোনে বায়েস্কোপ ফিল্মসের কর্ণধার রাজ হামিদ বলেন, ‘আমরা ২০১৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের “ঢাকা অ্যাটাক”, “দেবী”, “ফাগুন হাওযায়”, “যদি একদিন”, “স্বপ্নজাল”, “সাপলুডু” ছবিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে দেখিয়েছি। এ ছাড়া কলকাতার ছবি “কণ্ঠ”, “বিজয়া”সহ বেশ কিছু ছবি দেখিয়েছি। কিন্তু আমরা দেখেছি, কলকাতার বাংলা ছবির চেয়ে বাংলাদেশের ছবির প্রতি এখানকার বাঙালি দর্শকের আলাদা আগ্রহ আছে। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের অংশগ্রহণও বেশি দেখেছি। সেই ধারাবাহিকতায় “মিশন এক্সট্রিম” নিয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক প্রদর্শনীর আয়োজন করতে যাচ্ছি।’

‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবিটি বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) কিছু শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত। ছবিটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদ। ছবির গল্প ও চিত্রনাট্যও করেছেন সানী সানোয়ার। তিনি বলেন, ‘দেশের আগেই বিদেশে বুকিং শুরু হওয়াতে ভালো লাগছে। এর আগে “ঢাকা অ্যাটাক”সহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ছবি দেশের বাইরে আলোচনা তৈরি করেছিল। মোটকথা, বাংলাদেশের ছবির প্রতি বাংলা ভাষীদের আলাদা আগ্রহ আছে।

এই প্রযোজক ও নির্মাতা জানান, ব্যাপকভাবে ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির প্রচারণার কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে। শিগগির সিনেমার ট্রেলার ও আকর্ষণীয় কিছু প্রচার কনটেন্ট প্রকাশ করবেন।
সানী সানোয়ার আরও জানান, ‘মিশন এক্সট্রিম’ ও ‘মিশন এক্সট্রিম-২’–এর মধ্যে প্রথম পর্ব মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী ৩ ডিসেম্বর। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় পর্বও মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রযোজক।
এদিকে সানী সানোয়ার আরও জানান, ছবিটি অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, ক্যানবেরা, পার্থ, মেলবোর্নসহ বেশ কয়েকটি শহরে প্রদর্শিত হবে। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ও ওয়েলিংটনেও দেখা যাবে। সেই লক্ষ্যে আগামী ১ অক্টোবর থেকে বঙ্গজ ফিল্মস অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে।
মিশন এক্সট্রিম’ ছবিতে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ, তাসকিন রহমান, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, সাদিয়া নাবিলা, সুমীত সেনগুপ্ত, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ফজলুর রহমান বাবু, শতাব্দী ওয়াদুদ, মনোজ প্রামাণিক, ইরেশ যাকের, মাজনুন মিজান, সুদীপ বিশ্বাস, সৈয়দ আরেফ, রাশেদ মামুন অপু, দীপু ইমাম, এহসানুর রহমান, ইমরান শওদাগর প্রমুখ।
