• শুক্র. মে ১st, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

স্নিগ্ধ ও বৃষ্টিভেজা সকালে বীরঙ্গনার নতুন দুয়ারে ফরিদপুরে জেলা প্রশাসক

জুলাই 20, 2021

মনির মোল্যা, নিজস্ব প্রতিনিধি:

আষাঢ়ের ঘন বাদল দিনে স্নিগ্ধ ও বৃষ্টিভেজা সকালে বীরঙ্গনার নব নির্মিত দুয়ারে তার খোঁজ নিতে পৌছলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। করোনাকালীন আসন্ন ঈদ উৎসবে বিপন্ন মানুষে উৎসাহ উদ্দীপনা আর মনোবল বাড়াতে এ এক অচিন্তনীয়, অভূতপূর্ব উদ্যোগ। এর আগে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ নানা শ্রেণির মানুষের দুয়ারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার-মানবিক সহায়তা প্রদান আর ত্রাণ তৎপরতার অব্যাহত অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের এ আগমন।

সূত্র জানায়, সকাল ১১ টায় ফরিদপুর পৌরসভার শোভারামপুর এলাকার বাসিন্দা নিঃসন্তান মায়া রানীর দুয়ারে পৌছান জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। পৌছে তিনি বীরঙ্গনা মায়া রানীর সার্বিক খোঁজ-খবর নেন। এ সময় তিনি তাকে ফুল দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌছে দেন। জেলা প্রশাসকের সাথে এ সময় ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ভূমিহীন গৃহহীনদের জন্য ভূমি প্রদান ও গৃহ নির্মান কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন, তারই অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে একটি ঘর করে দিতে পেরেছি। তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তিনি আমাদের বীরঙ্গনা। আমরা এই ঘর দিয়ে শুরু করলাম। ভবিষ্যতে তার জন্য আরো ভাল কিছু করার চেষ্টা করবো। তার যেন থাকা খাওয়া সমস্যা না হয় সেজন্য সব সময়ই আমাদের প্রশাসন যোগযোগ করবে।

জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজ বাড়িতে ১৬ বছর বয়সে হানাদার বাহিনী ও স্থানীয় দোসরদের দ্বারা নির্যাতিত হন মায়া রানী সাহা। ফরিদপুর বর্ধিত পৌরসভার শোভারামপুরের বাসিন্দা মায়া রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে অসহায়ভাবে জীবন যাপন করছিলেন। তার ছিলো না কোন স্বীকৃতি কিংবা ভরসার জায়গা। খবর পেয়ে গণশুনানীর সময় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার এর সাথে সাক্ষাত করেন মায়া রানী। মায়া রানী অশ্রুভারাক্রান্ত কন্ঠে তার সাথে ঘটে যাওয়া সেই বিভীষিকাময় অধ্যায়ের কথা, তার অসহায়ত্বতার কথা জানান জেলা প্রশাসককে।

তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজাকে নির্দেশনা প্রদান করেন মায়া রাণী সাহার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করতঃ সুস্পষ্ট মতামতসহ জামুকায় প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য। সেই নির্দেশনার আলোকে গত বছরের ১৪ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে উপজেলা বীরাঙ্গনা যাচাই বাছাই সংক্রান্ত গঠিত বিশেষ কমিটি প্রতিবেদন প্রস্তুতকরতঃ জামুকা বরাবর প্রেরণ করেন। তারই প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে মায়া রাণী সাহাকে ৩৮০ নং গেজেটে বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন।

এদিকে বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও তার ছিলনা কোনো থাকার ঘর। মায়া রানী সাহার জরাজীর্ণ আবাসস্থল সেমি পাকা ভবনে রূপান্তরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে একটি সেমি পাকা ঘর নির্মানের কাজ শুরু করে মায়া রানী সাহার জরাজীর্ণ বসত ভিটায়। বর্তমানে নির্মান কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এখন মায়ারানী তার ঘরে বসত করছেন।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments