
মনির মোল্যা, নিজস্ব প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কোদলিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের ঈশ^রদী গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত যুবক রাজুর মৃত্যুর পর গ্রেফতার আতঙ্কে ঈশ^রদী গ্রামের শতাধিক পুরুষ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ঠেনঠেনিয়া গ্রামে শশুর বাড়ীতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকালে মারা যায় রাজু কারিগর (২৫) নামে এক যুবক। তার আগে ২৯ জানুয়ারি (বুধবার সকালে) ঈশ্বরদী গ্রামের ওয়াদুদ মাতুব্বর ও রাজ্জাক মাতুব্বরের সমর্থকদের সঙ্গে মাসুদ মাতুব্বর ও ছলেমান মাতুব্বরের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে মাসুদ মাতুব্বরের সমর্থক রাজু কারিগরসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
মৃত্যুর তিনদিন আগে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত রাজুর পিতা সিরাজ কারিগর বাদী হয়ে পরেরদিন নগরকান্দা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত রাজুর স্ত্রী ও একটি মেয়ে রয়েছে।
বাবা সিরাজ কারিকর বলেন, সংঘর্ষের সময় আমার ছেলে রাজুকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে রাজু তার শ^শুর বাড়ীতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিল। তার মৃত্যুর পর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। এখন পর্যন্ত কোনো আসামী গ্রেফতার না হওয়াতে আমি হতাশ।
নগরকান্দা থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, রাজু হত্যা মামলায় ৩৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। এদের সবাই এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে রাজু হত্যা মামলায় নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও জাতীয় পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি বেলায়েত হোসেন লিটনকে আসামী করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন লিটন বলেন, ওই সংঘর্ষের সময় আমি পেশাগত কাজে নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ছিলাম। আসামী পক্ষ আমার প্রতিবেশী হওয়ায় ষড়যন্ত্র মূলকভাবে আমাকে আসামী করেছে। স্থানীয় সাংবাদিকগণ এ ঘটনার নিন্দা ও দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
