• বুধ. মে ২০th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সালথায় তরুণ উদ্যোক্তার হাত ধরে পরিবেশবান্ধব শিল্পে বিপ্লব

জানু. 17, 2026


মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘সোনালি আঁশ’ পাটকে নতুনভাবে কাজে লাগিয়ে সালথায় সৃষ্টি হচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রঘুয়ার কান্দি গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল পাটজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এলাকায় গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমধর্মী পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নিজের বাড়িতে স্থাপন করা দুটি আধুনিক পাটপণ্য তৈরির মেশিনের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত উৎপাদন করছেন বিভিন্ন ধরনের পাটের ব্যাগ, শপিং ব্যাগ, অফিস ব্যাগ ও লোগো সংবলিত আকর্ষণীয় প্যাকেজিং ব্যাগ। বর্তমানে চাল, মুদি দোকান ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য লোগো সংবলিত বিভিন্ন সাইজের ব্যাগ তৈরি করে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।

উৎপাদিত এসব পণ্য সালথা বাজারে তার নিজস্ব দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলাতেও তার পণ্যের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে।

উদ্যোক্তা সোহেল বলেন, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিই আমার মূল লক্ষ্য। শুরুটা ছোট হলেও স্বপ্ন অনেক বড়, একদিন সালথার পাটপণ্য দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও যাবে।

এই কারখানায় বর্তমানে কয়েকজন স্থানীয় যুবক কাজ করছেন, যার ফলে বেকারত্ব কমানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে এই উদ্যোগ। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে এখানে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি সহযোগিতা, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ পেলে এই শিল্পটি বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণ সম্ভব। তারা বলছেন, সালথার পাটজাত পণ্য একদিন ফরিদপুর জেলার একটি পরিচিত ব্র্যান্ডে পরিণত হতে পারে।

পরিবেশ রক্ষা, স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করা এবং কর্মসংস্থান এই তিনটি লক্ষ্য একসাথে পূরণ করছে সালথার এই পাটশিল্প উদ্যোগ। নিঃসন্দেহে এটি গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

সালথা উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, বর্তমান সময়ে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি। সালথার তরুণ উদ্যোক্তা সোহেলের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পাটজাত পণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি এর বাজার সম্ভাবনাও অনেক বড়। এ ধরনের উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে একদিকে যেমন পাটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাট উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, পাট আমাদের দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় ফসল। কাঁচামাল হিসেবে পাটের পাশাপাশি পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে গুরুত্ব বাড়াতে পারলে কৃষক ও উদ্যোক্তা দু’পক্ষই লাভবান হবে। সালথায় একজন তরুণ উদ্যোক্তা যেভাবে পাটকে কেন্দ্র করে শিল্প উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন, এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

১৭ জানুয়ারি ২০২৫

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments