• বুধ. মে ২০th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

অক্টো. 3, 2023

রাজিউল হাসান পলাশ: ঢাকার ধামরাইয়ে টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বেতন না দেওয়া ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ না দেওয়া,
প্রত্যায়নপত্রের জন্য নির্ধারিত ফি এর বেশি টাকা নেওয়া এবং ভবন ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বেতন না পাওয়া ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ না পাওয়ায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ১৬ শিক্ষক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নিয়ম অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ডের নামে শিক্ষকদের বেতন থেকে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে কেটে নেওয়া হতো। এভাবে ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত অর্থ কেটে রাখা হয়। এরমধ্যে চাকরি ছেড়ে যাওয়া কয়েকজনের আংশিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পরিশোধ করা হলেও বেশিরভাগ শিক্ষকই এই টাকা পাননি। এছাড়া ২০২০ সালের মার্চ মাসের বেতনও পাননি তারা। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার বলা হলেও অর্থ পরিশোধ না করায় তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) অভিযোগ দেন।
প্রায় দশ বছর ধরে টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে গণিত বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন আয়নাল হক। তার দুই সন্তানকেও পড়িয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানে। তিনি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা নেওয়ার নিয়ম চালু হয়। এরপর টানা ২০২০ সাল পর্যন্ত টাকা কেটে রেখেছেন তারা। কয়েকজনকে সেই সময় একাংশ টাকা দেয়। পরবর্তীতে আমি ২০২৩ সালের জুনে নিয়ম মেনে চাকরি ছেড়ে দেই। এরপর তাদের কাছে বারবার টাকা চাইলেও টাকা দেননি তারা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সহকারী শাখা প্রধান মমতাজ বেগম বলেন, আমি আট বছর সেখানে শিক্ষকতা করেছি। ওই সময় ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টাকা কেটে রেখেছে। কিন্তু আমার ২০২০ সালের মার্চ মাসের বেতন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ পরিশোধ করেননি তারা।
এদিকে টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা হয়। প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তারা। তবে এটির বর্তমান প্রধানের দাবি, অভিযোগকারী কয়েক শিক্ষকের কাছে কয়েক লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। যদিও সাবেক শাখা প্রধান জানান, শিক্ষকের সন্তানদের কাছ থেকে অর্ধেক বেতন নেওয়া হতো। তারা পুরে টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি দায়িত্বে না থাকায় ফান্ডের অর্থ পরিশোধের বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ধামরাই শাখা প্রধান মহিদুল ইসলাম জানান আট মাস ধরে এখানে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। তার দাবি, অভিযোগকারী শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজনের সন্তান এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়েছেন৷ তাদের একেকজনের কাছে অর্থ পাওনা রয়েছে। এরমধ্যে আয়নাল হকের দুই সন্তানের কাছে ২,৪৬,৭০০ টাকা, মমতাজ বেগমের দুই সন্তানের পড়াশোনা বাবদ ৩,২৩,৬০০ টাকাসহ কয়েকজনের কাছে কয়েক লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী টাকা কেটে রাখা হয়েছে। তবে তাদের কাছে সন্তান পড়ানো বাবদ টাকা পাওনা ছিল। তারা কখনো আমাদের কাছে আসেননি। যেহেতু তারা বাইরে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি আইনগত ভাবেই মোকাবিলা করা হবে। আর পাওনা থাকলে সেটি দেওয়া হবে।
মানসুরা আক্তার নামে এক শিক্ষক জানান, তার মেয়ে পড়ানো বাবদ বকেয়া টাকা তার আগের মাসের বেতন থেকে কেটে রাখা হয়। একইভাবে আয়নাল হক, মমতাজ বেগমসহ কয়েকজনও জানান প্রতিমাসে বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নগদ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এটির দায়িত্বে থাকা সোহরাওয়ার্দী হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের সন্তানদের ফির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষকরা নগদ অর্থে সেই টাকা পরিশোধ করেছেন। কারো টাকা বকেয়া আছে কি না সেটি জানা নেই। আর আমি দায়িত্বে নেই। ফলে বিস্তারিত বলতে পারছি না।
টাঙ্গাইল স্কুল এন্ড কলেজের পাশেই মহিলা হোস্টেলের জন্য আরও একটি ভবন ২০১৬ সালে ৫ বছরের চুক্তিতে ভাড়া নেন। কিন্তু চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তারা ২০২৩ পর্যন্ত ভবনটি ব্যাবহার করেন। কিন্তু বাড়ির মালিক  প্রমান সহ জানান তারা এখনও টাঙ্গাইল স্কুলের নিকট ২লক্ষ ৭২ হাজার টাকা পাবেন। বাড়ির মালিক জানান স্হানীয় চেয়ারম্যান এ বিষয় নিয়ে তাদের সাথে ঘরোয়াভাবে বসলে টাঙ্গাইল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ রানা পরে টাকা দিয়ে দিবে বলে এখনও টাকা দেয় নাই বলে জানান ভবনটির মালিক মোরাদ হাসান।
টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান মাসুদ রানা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। উপজেলা থেকে জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সরাসরি কথা বলে মোকাবিলা করা হবে।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে। সমাধান না হলে আইনত যে ব্যবস্থা তা নেওয়া হবে।
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments