• বৃহস্পতি. এপ্রিল ৩০th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সালথা’য় বাচ্চু রাজাকার বাহিনীর তান্ডব, আ’লীগ পন্থীদের বাড়ীঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট!

নভে. 13, 2019

 

মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :             ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়ায় গ্রামে একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের মদদপুষ্টরা হামলা চালিয়েছে আওয়ামীলীগ সমর্থিতদের বাড়ীঘরে। সোম ও মঙ্গলবার এ হামলা চালানো হয়।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানায়, দফায় দফায় চালানো ওই হামলায় অন্তত ২০টি পরিবারের বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। ঘরের বেড়া কুপিয়ে কেটে অনেক ঘরে প্রবেশ করে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় তারা। এসময় নারীদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ক্ষতিগ্রস্তরা সবাই আওয়ামীলীগের সমর্থক দাবী করে তারা বলেন, ঘটনার পর থেকে ফের হামলার শংকায় পুরুষ সদস্যরা বাড়ীঘরে ফিরতে পারছেনা। অন্যগ্রামে আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নারী সদস্যরা জানান, সোমবার দুপুরে কয়েকশত বাড়ীতে কয়েকশত হামলাকারী দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আকষ্মিকভাবে হামলা চালিয়ে বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় হামলাকারীদের প্রতিরোধে ব্যার্থ হয়ে পুরুষ সদস্যরা পালিয়ে যায়। এই সুযোগে তারা নারী সদস্যদের উপরও হামলা করে। তারা দাবী করেন, হামলাকারীরা মূল্যবান সম্পদ লুটে নেয়ার পাশাপাশি আসবাবপত্র ভাংচুর করে। তারা আরো জানান, পরদিন মঙ্গলবারও বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে মারধর করা হয়।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত যদুনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়া জানান, স্থানীয় ইমরুল ইসলাম মোল্লা, সিদ্দিক মোল্লা, বক্কার মোল্লা, ওসমান মোল্লা, নান্নু মোল্লা, জুয়েল মোল্লা, তারা মোল্লা, জালাল মোল্লাসহ যাদের বাড়ীঘরে হামলা চালানো হয়েছে তারা সবাই আওয়ামীলীগের কর্মী। তিনি জানান, হামলাকারীরা বাড়ী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে অবস্থিত আমার (আলমগীরের) ইট ভাটাতেও হামলা চালিয়ে মেশিনপত্র ও কাচা ইট ভাংচুর চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি দাবী করেন, বাচ্চু রাজাকারের মামাতো ভাই ও যুদ্ধাপরাধী ছত্তার মিয়ার দুই ছেলে জাহিদ মিয়া ও টুলু মিয়া এবং তার (বাচ্চু রাজাকারের) শ্যালক ইলিয়াস কাজী, সিরু কাজী, জামাল কাজী ও মাহাবুব কাজী নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। তিনি আরো দাবী করেন বাচ্চু রাজাকার ও তার সন্তানদের মদদেই উল্লেখিত ব্যাক্তিরা স্থানীয়ভাবে আধিপত্ত প্রকাশ করতে প্রায়শ এধরণের হামলা চালিয়ে আসছে।

যদিও অভিযোগ ওঠাদের পক্ষে জাহিদ মিয়া হামলা সাথে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বাচ্চু রাজাকারের পরিবারের সাথে তাদের পরিবারের সম্পর্ক হয় একাত্তরের আগে। কিন্তু একাত্তরে বাচ্চু রাজাকারের বিতর্কিত ভুমিকার পর থেকে আর কোন যোগাযোগ ছিলোনা। তিনি আরো দাবী করেন. প্রতিপক্ষের নান্নু মিয়া ও আবু বকর সিদ্দিক গংরা এলাকায় নানা অপকর্ম করে বেড়ায় তাদের অত্যাচারে অতিষ্টরা সংগবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।

যদিও পুলিশ জানিয়েছে ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে দাবী করে সালথা থানার কোবায়েত হোসেন বলেন, এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

এদিকে হামলাকারীরা কুখ্যাত বাচ্চু রাজাকারের মদদপুষ্ট নিশ্চিত করে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিব সরকার জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী বে-আইনি সমাবেশ ভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়ার পরও মারাত্বক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে অংশগ্রহন করার অপরাধে আটক পাঁচ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে ভাম্যমান আদালতের মাধ্যমে। তিনি জানান, একাত্তরের মানবতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের পক্ষে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য সংঘর্ষে লিপ্ত অবস্থায় মোবাইল কোর্টে ধৃত বড় খারদিয়া গ্রামের কালু শেখের ছেলে নিলু শেখ (৫৫)কে দুই বছর, যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের রাহেম মোল্যার ছেলে জয়নাল মোল্যা (৫৭) কে এক বছর ও বড়খারদিয়া গ্রামের মান্দার মোড়লের ছেলে হারুন মোড়ল (৪৫) কে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।

এছাড়াও সংঘর্ষের সময় ওই এলাকায় অবস্থান করার অপরাধে সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের বাসার মোল্যার ছেলে হাসান মাহমুদ (৩০)কে তিন দিন ও বড়খারদিয়া গ্রামের জানু শেখের ছেলে মিজান শেখ (৩২) কে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমান আদালত।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments