• বুধ. আগস্ট ৫th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সালথায় সীমানা প্রাচীরহীন বিদ্যালয়ে ঝুঁকিতে ১৩৪ শিক্ষার্থী

আগস্ট 5, 2026

মনির মোল্যা,সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
প্রধান সড়কের একেবারে পাশে বিদ্যালয়। চারপাশে নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষের পাশ দিয়েই প্রতিদিন অবাধে চলাচল করছেন স্থানীয় লোকজন। টিফিনের সময় ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের অনেকেই চলে যায় সড়কের দিকে। পাশেই একটি মাদ্রাসা থাকায় বাইরে থেকে আলাদা করে বিদ্যালয়টি চেনাও কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ৫৪ নম্বর বড়খারদিয়া দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।

শুধু সীমানা প্রাচীরের অভাবই নয়, বিদ্যালয়ে নেই কোনো দপ্তরী (অফিস সহায়ক)। ফলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ভবনের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজেও তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী সংকট। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার বিষয়টি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে গিয়ে এসব চিত্র দেখা যায়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে প্রায় ৪৫ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও তিনজন সহকারী শিক্ষিকা কর্মরত আছেন। মোট শিক্ষার্থী ১৩৪ জন। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক শাখায় ২৫ জন, প্রথম শ্রেণিতে ২০ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৪ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ২৪ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ২১ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কোনো সীমানা না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ব্যবহার করছেন। টিফিনের সময় শিশুদের নিরাপদে রাখার জন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয়। বিদ্যালয় ছুটি হলে কিংবা শ্রেণিকক্ষের বাইরে এলেই শিশুদের ব্যস্ত সড়কে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় বন্ধের দিনগুলোতে ভবনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যায় না।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা প্রতিনিয়ত উদ্বিগ্ন থাকেন। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত প্রাচীর নির্মাণ এবং একজন দপ্তরী নিয়োগের দাবি জানান তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. এবাদত আলী খান বলেন, “বিদ্যালয়টি রাস্তার পাশে হওয়ায় টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হয়। কয়েকদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে ফিরে এসে অনেক সময় ছোটখাটো ভাঙচুরের ঘটনা দেখা যায়। আগে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রাঙ্গণে গাছ লাগালেও সেগুলো সংরক্ষণ করা যায় না।”
তিনি বলেন, “একজন দপ্তরী নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা অনেক সহজ হবে।”

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। প্রথমে সার্ভেয়ার দিয়ে বিদ্যালয়ের জমি পরিমাপ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

৫ আগষ্ট ২০২৬

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.