• মঙ্গল. জুলাই ২৮th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সালথায় হত্যা মামলার পর গ্রামে নতুন সংকট, পাট কাটতে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

জুলাই 28, 2026

মনির মোল্যা,সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা গ্রামে একটি হত্যা মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেক পুরুষ সদস্য এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগে কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের জমির পাট কাটতে বাধা, ইতালিপ্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী।

এ ঘটনায় সোমবার (২৮ জুলাই) কুমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা তানিয়া বেগম সালথা থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যা মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রামের অনেক পুরুষ সদস্য আত্মগোপনে রয়েছেন। এই সুযোগে কিছু ব্যক্তি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তানিয়া বেগম জানান, তাঁর স্বামী ইতালিতে কর্মরত। পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্য বাড়িতে না থাকায় নিজেদের জমির পাট কাটার জন্য তিনি বাইরের শ্রমিক নিয়োগ করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা শ্রমিকদের পাট কাটতে বাধা দেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ জুলাই সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকরা পাট কাটতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা চালান। পরে সকাল ১০টার দিকে তারা তানিয়া বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। এতে তিনি আহত হন।

তানিয়া বেগমের দাবি, হামলার সময় তাঁর গলায় থাকা প্রায় ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক খুলে নেওয়া হয়। পুরো ঘটনার ভিডিওচিত্রও সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে যাওয়ার সময় রাতে এসে হত্যা করার হুমকি দেয়। এরপর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। অভিযুক্তদের ভয়ে নিজেদের জমির পাটও কাটতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে ওয়ারেছ ফকির, ইয়ার আলী ফকির, ইব্রাহিম সরদার, রুপনা বেগম ও মিজানুর ফকিরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, হত্যা মামলার ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের একটি চক্র এলাকায় বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি স্কুলের জমি দখল করে ঘর নির্মাণ, বাজারের বিভিন্ন দোকানে ডাবল তালা লাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি এবং নিরীহ মানুষকে হত্যা মামলার আসামি করার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

২৮ জুলাই ২০২৬

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.