• সোম. জুলাই ৬th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

বইমেলায় ৮২ কোটি টাকা বিক্রি হয়েছে শুনে কপালে চোখ ওঠার কী হলো: আনিসুল হক

মার্চ 1, 2020


বইমেলায় ৮২ কোটি টাকা বিক্রি হয়েছে শুনে কপালে চোখ ওঠার কী হলো। ১৫% রয়ালটি হলে ১২ কোটি টাকা রয়ালটি আসবে। লেখকের সংখ্যা কম করেও ১২ হাজার। প্রত্যেক গড়ে পাবে ১০ হাজার টাকা। হায়, ১০ হাজার লেখক ১২ কোটি টাকা ভাগ করে নেবেন, আর পাপিয়া শুধু এমপি হওয়ার ব্যর্থ সোনার হরিণের জন্য ১০ কোটি টাকা এক মৌসুমেই খরচ করে। এক লোক সোনালি ব্যাংক থেকে তুলে নেয় দুই হাজার কোটি টাকা। আরেকজন চার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশ চলে যায়। আর আমরা ১২ হাজার লেখক মিলে ১২ কোটি টাকা পাব বলে হিসাব করি, সেই রয়ালটিও ১০০ জনের বেশি লেখক পান না।
লিখবেন না। অন্তত টাকার জন্য লিখবেন না। উদাহরণ দিব। ধরা যাক, আমার একটা বই বেরিয়েছে যার দাম ১২০ টাকা। এটা প্রতি কপির জন্য আমি রয়ালটি পাই ১৮ টাকা। তিন হাজার বই বিক্রি হলে আমি পাব ৫৪ হাজার টাকা। এই বই লিখতে আমার লাগবে এক মাস। প্রুফ দেখো, প্রচ্ছদ বাছো– যন্ত্রণা আরেক মাস। তারপর বইমেলায় রোজ যাও। অটোগ্রাফ দাও। ফটোগ্রাফ দাও। ধুলা খাও। এর বদলে আমি যদি কোনো সাবান কোম্পানির হাত ধােয়ার অনুষ্ঠানে গিয়ে ৫ মিনিটের জন্য হাত ধুই, আমি পাব ৫০ হাজার টাকা। বিপিএলে একবার হিসাব করে দেখেছিলাম, একজন বোলার প্রতি বলের জন্য এক লাখ টাকা পেয়েছিলেন। কাজেই কেউ ভাববেন না, আমি টাকার জন্য লিখি। বই লিখে কমই টাকা পাওয়া যায়। বোঝেন, ১২ হাজার লেখকের সারা বছরের আয় ১২ কোটি টাকা। ১০০ জন ভাগ করে নিলেও তো প্রত্যেকের ভাগে ১২ লাখের বেশি আসে না। মাসে এক লাখ টাকা। আমাদের বহু ব্যাংকার, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে মাসে বেতন আছে ৫ লাখ টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা মাসে।
গরিবেরাই লেখক হয়, লেখকেরাই গরিব হয়।
তবে বিক্রি অবশ্যই ২০০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। আমি হিসাব করে দিতে পারব। বিক্রেতারা স্বীকার করবেন না। অসুবিধা আছে।

লেখকঃ আনিসুল হক,বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.