• রবি. জুন ২৮th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

‘নগদ’ সেবা প্রদানে সারা দেশে ডাক বিভাগের শাখা

মার্চ 8, 2019

মানুষকে লেনদেনের স্বাধীনতা দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যানসিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ চালু হচ্ছে। ‘নগদ’কে মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশজুড়ে ৯ হাজার ৮৮৬টি পোস্ট অফিসের অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেলা পর্যায়ের পোস্ট অফিসগুলোকে এবং পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের শাখাগুলোকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে ডাক বিভাগ।

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি পোস্ট অফিসে ডিজিটাল ফিন্যানসিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ সেবাটি পাওয়া যাবে এবং এজন্য আলাদা করে ব্র্যান্ডিং ও প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ চলছে।

বর্তমানে নতুন করে এই কর্ম চাঞ্চল্য নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের ৪০ হাজার কর্মীর বিশাল পরিবার ডিজিটাল ফিন্যানসিয়াল সার্ভিস নগদ নিয়ে সত্যিকার অর্থেই যথাযথ প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডাক বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কর্মীরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারার বিষয়টিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ডাক বিভাগের আধুনিকরণের ক্ষেত্রেও একটা বড় অর্জন। পাশাপাশি এই পদক্ষেপটি দেশের সার্বিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতেও ভূমিকা রাখবে।’

‘৯ হাজার ৮৮৬টি পোস্ট অফিস আর ৪০ হাজার কর্মী নিয়ে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডাক বিভাগ কয়েক দশক ধরে অর্থ আদান প্রদানের প্রধান মাধ্যম হিসেবে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা দিয়ে আসছে। ডাক বিভাগ সময়ের বিবর্তনে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে চালু হয় পোস্টাল ক্যাশ কার্ড এবং ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফার সিস্টেম। গত কয়েক বছর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত না হলে বিগত কয়েক মাস ধরে নতুন উদ্যম লক্ষ্য করা যাচ্ছে ডাক বিভাগের বিভিন্ন স্তরে।’

ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশাস্ত কুমার মণ্ডল আরও বলেন, ‘অন্যান্য আর্থিক সেবা সহজ করার পাশাপাশি, নগদ-এর মাধ্যমে সামগ্রিক আর্থিক সেবা সমূহ সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ের নাগরিকদের কাছে পৌঁছানোতে গতি আসবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার। আর এ ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের দেশব্যাপী বিস্তৃত অবকাঠামো এবং ৪০ হাজার দক্ষ জনশক্তি সুদৃঢ় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

জেলা পর্যায় থেকে নামের তালিকা তৈরি করতে গিয়ে ব্যাপক সাড়া পাওয়া প্রসঙ্গে নগদের হেড অফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মো. সোলায়মান বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের পোস্ট অফিসগুলো থেকে আমরা ইতোমধ্যে আশাতীত সাড়া পেয়েছি। বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তির ব্যাপারে এই আগ্রহ আমাদেরকে উদ্দীপ্ত করেছে অনেক বেশি। ডিজিটাল ফিন্যানসিয়াল সার্ভিসের খুঁটিনাটি ও অ্যান্টি মানি লন্ডারিং নিয়ে কর্মশালায় অংশ নেওয়ার জন্যে ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে ২ হাজার জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সরকারি এবং বেসরকারি এই মিলিত উদ্যোগ দেশের বিভিন্ন পোস্ট অফিসের কর্মচারীদের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পেছনে ডাক বিভাগের প্রত্যক্ষ অবদান হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।’

‘প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে মানুষের যোগাযোগের ধরন পাল্টে যাওয়ায় অনেকটা সময় ধরেই ডাক বিভাগের উপযোগিতা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ে। ডাক বিভাগের বিস্তৃত অবকাঠামোর সাথে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনকে এগিয়ে নেওয়ার একটা তাগিদ অনুভূত হচ্ছিল অনেক বছর ধরে। ডিজিটাল ফিন্যাসিয়াল সার্ভিস নগদ, সেই আলোচনা এবং অভিজ্ঞতার ফসল। আর্থিক খাতের সরকারি এবং বেসরকারি দক্ষ কর্মীদের নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে “নগদ”। গত কয়েক মাসের প্রস্তুতি পর্বের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল পোস্ট অফিসের আধুনিকীকরণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ সূচি প্রস্তুত করা প্রভৃতি।’

Source : priyo .com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.