
রাজিউল হাসান পলাশঃ ঢাকার ধামরাইয়ে বালিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৩১ বছরের একটি বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এমন অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। ১৯৮৯ সালে স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় স্কুলের নাম রাখা হয়েছিলো ‘প্রত্যাশা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’। চলতি বছর সেই স্কুলের নামের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করার ইচ্ছায় ম্যানেজিং কমিটির সভায় প্রস্তাব করে নিজের নামসহ রেজ্যুলিউশনও পাস করিয়েছেন চেয়ারম্যান। তবে এর বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।
ঢাকার ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনহাটি গ্রামের প্রত্যাশা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটেছে এ ঘটনা। নিজের নাম বসানোর চেষ্টাকারী ওই চেয়ারম্যান বালিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আহমদ হোসেন। তার প্রস্তাবিত স্কুলের নতুন নাম প্রত্যাশা আহমদ হোসেন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।
বুধবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে স্কুল প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধন করেছে স্থানীয় কয়েক গ্রামের মানুষ।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন প্রতিবাদী বক্তব্য লেখা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড বহন করে। কথিত নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে তারা নানান স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া কয়েকজন বলেন, প্রত্যাশা স্কুলটি শুধু এই এলাকা নয়, আশপাশের বহু জায়গায় নামকরা। স্কুলটির প্রতিষ্ঠাকালে এই চেয়ারম্যানের কোন অবদান ছিলো না। অথচ এখন ক্ষমতাবলে তিনি এটির মধ্যে নিজের নাম বসাতে চাইছেন। যা তার নিচ মানসিকতার প্রমাণ।
তারা বলেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়েই একচ্ছত্র আধিপত্য খাটাচ্ছেন চেয়ারম্যান আহমদ হোসেন। স্কুলের উন্নয়ন কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিলো তার বিরুদ্ধে। এবার সে স্কুলের নামের মধ্যে নিজের নাম বসাতে চাইছে। তবে আমরা তার এই উদ্যোগকে সফল হতে দেবো না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রত্যাশা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পারভীন আক্তার বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ম্যানেজিং কমিটির সভায় এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিলো। আজ সেটার পরিদর্শক এসেছিলেন। আমি তাকে এগিয়ে আনতে গিয়ে মানববন্ধন দেখি। তবে মানববন্ধনকারীদের সঙ্গে কথা হয়নি। ফলে আমি এবিষয়ে জানি না।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের চেয়ারম্যান আহমদ হোসেন জানান, আমরা কয়েকমাস আগে মিটিং করে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন সরকার যদি নিয়ম অনুযায়ী করে তাহলে করবে। তবে এবিষয়ে এমপি, ইউএনও, টিএনও সবাই ডিও লেটার দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতেই ইন্সপেক্টর আসছিলেন। ও-ই সময়েই কিছু পোলাপান ব্যানার দেখায়। তবে তার চেয়েও বেশি লোকজন নাম চায়।
এবিষয়ে ধামরাই উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নায়ার সুলতানা বলেন, সরকারি বিধি আছে নাম পরিবর্তনের। সেই বিধি অনুযায়ী আবেদন করলে জেলা শিক্ষা অফিস বিষয়টি দেখে। আমি এই বিষয়ে পুরোপুরি জানি না। খোঁজ নিয়ে জানাবো।
