
পূর্ব শত্রুতার জেরে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় এক মৎস্য খামারির প্রায় ২৫০টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের হাতনী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত রোববার ভূক্তভোগী ব্যক্তি পুলিশের স্থানীয় তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ এবং ভূক্তভোগী ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাতনী গ্রামের মো. শেখ কুদ্দুস বাগানবাড়ি করার উদ্দেশ্যে ১৭৩ শতক জমিতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। বাগানবাড়িতে একটি বড় মৎস্য খামার রয়েছে। মৎস্য খামারটি অগভীর হওয়ায় পুকুরে পানি থাকে না। এ কারণে মাছ চাষে সফলতা না পেয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে পুকুর খনন করার অনুমতি দেন। পরবর্তীতে মৎস্য খামারে মাটি রাখার জায়গা না থাকায় মৎস্য খামারি মাটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। এ মাটি কিনতে চান স্থানীয় হাতনী গ্রামের আসমত উল্লা, মো. হাসান, টিটু মিয়া ও আরিফ হোসেনসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন যুবক। তবে তাঁদের কাছে মাটি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় খামারির ওপর ক্ষুব্দ হন ওই যুবকেরা। এর পর গত ১৫ এপ্রিল রাত একটার দিকে ওই যুবকেরা মাটিবহনকারী গাড়ি ও এক্সাভেটর (ভেকু) ভাঙচুর করেন। এর পর তাঁরা খামারির কাছে চাঁদা দাবি করেন।

ভূক্তভোগী শেখ কুদ্দুস বলেন, গত রোববার সকালে খামারি কুদ্দুস খামারবাড়িতে গিয়ে তাঁর প্রায় ২৫০ গাছ কাটা দেখতে পান। এর আগের দিন দিবাগত রাতে ওই যুবকেরা এসব গাছ কেটে ফেলেন। এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে ওই যুবকেরা তাঁকে মারধর করার হুমকি দেন। তিনি আরও বলেন, সুপারি, আম, কাঁঠাল ও কলাগাছসহ বিভিন্ন ফলের প্রায় ২৫০টি গাছ করা হয়েছে। এর আগে রাতের আঁধারে ওই যুবকেরা তাঁর পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় টিটু মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফ হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা এবং বানোয়াট। এ ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
স্থানীয় শান্তিুপুর তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের কর্মকর্তা পরিদর্শক মামুনুর রশিদ খান বলেন, গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
নিজস্ব প্রতিবেদক,
