সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় আফরোজা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর উপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে আক্কাস মোল্লা (৩৫) ও রমজান মোল্লা (৩৩) নামে দুই ব্যক্তির রিরুদ্ধে। গত সোমবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের নারানদিয়া ঈদগাহ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী আফরোজ বেগম উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের নারানদিয়া গ্রামের আলমগীর মোল্লার স্ত্রী। অভিযুক্ত আক্কাস মোল্লা নারানদিয়া গ্রামের কালাম মোল্লার ছেলে ও অভিযুক্ত রমজান মোল্লা একই গ্রামের সালাম মোল্লার ছেলে।
অভিযোগকারী আফরোজা বেগম বলেন, আমার ছেলে মাদ্রাসায় গিয়েছিলো। মাদ্রাসায় গিয়ে আক্কাস মোল্লার ছেলের সাথে আমার ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে মাদ্রাসায় এসে আক্কাস মোল্লা আমার ছেলেকে জবাই করার হুমকি দেয়। এই কথা শোনার পর আমার ছেলে কান্না করতে করতে বাড়িতে চলে আসে। আমার ছেলের মুখ থেকে কথা গুলো শোনার পর বুঝিয়ে শুনিয়ে আমি আমার ছেলেকে পুনরায় মাদ্রাসা এগিয়ে দিয়ে ফেরার পথে কোনো কথা ছাড়াই আক্কাস ও রমজান আমার উপর হামলা করে। আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে৷ আমি বাড়িতে এসে আমার শ্বশুরকে কল দিয়ে বিষয়টা জানাই এবং তিনি আমাকে স্থানীয় মাতুব্বর রেজাউল মেম্বারের নিকট বিষয়টি জানাতে বলেন। আমি আমার শ্বশুরের কথা মত রেজাউল মেম্বারের বাড়িতে যাওয়ার সময় পথের মধ্যে আক্কাস, আক্কাসের বউ ও তার মা ভাই বউসহ আমার উপর আবারও হামলা করে। এতে আমি গুরুতর আহত হই। পরে আমি সালথা থানায় মামলা করার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে থানার সামনে পৌঁছালে আক্কাস, রমজান ও রেজাউল মেম্বার মামলা করার জন্য নিষেধ করেন। সেইসাথে আমার চিকিৎসার জন্য সকল খরচ চালাবে এ আশ্বাস দেন। পরে আমি বাড়িতে চলে আসি এসে তাদের দেওয়া ঔষধ আমি খাচ্ছি কিন্তু শরীরের কোনো পরিবর্তন আসছে না। বিষয়টি তাদের বললে তারা বলেছে তোমরা যা পারো তাই করো তোমাদের আর কোনো কিছু আমরা দিতে পারবো না। বাড়ি থেকে বের হও কি ভাবে সেটাও দেখে নিবো।
তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী আলমগীর মোল্লা এলাকায় একটি ছোটখাটো মুদি দোকান করতেন এবং সেইসাথে কৃষক দল করতেন। গত তিন মাস পূর্বে আমার স্বামী কে আক্কাস ও রমজান প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দিতো তাদের দলে মেশানোর জন্য। আমার স্বামী তাদের কথায় রাজি না হলে একদিন ওরা আমার স্বামীর উপর হামলা করে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পরে আমার স্বামী থাকায় একটি মামলা দায়ে করে আমি সেই মামলার সাক্ষী। মামলা করার পর থেকে আমার স্বামী ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। ওরা প্রতিনিয়ত আমাকে মামলা উঠানোর জন্য আমাকে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি মামলা উঠানোর জন্য রাজি হচ্ছি না দেখে আমার উপর হামলা চালিয়েছে।
অভিযুক্ত আক্কাস মোল্লা ও রমজান মোল্লার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে স্থানীয় মাতুব্বর রেজাউল মেম্বার বলেন, আক্কাস মোল্লার ছেলের সাথে আলমগীরের ছেলের মধ্যে মাদ্রাসায় মারামারি হয়। মাদ্রাসায় গিয়ে আলমগীরের বউ আক্কাসের ছেলেকে মারধর করে। এই নিয়ে আক্কাসের বউয়ের সাথে আলমগীরের বউয়ের ঝগড়াঝাটি হওয়ার এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে আমরা দুই পরিবারকে মিমাংসা করে দেই।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
