সখীপুরে মাজহারুল হত্যার ১০ দিনে ১জনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক:-
টাঙ্গাইলের সখীপুরে আলোচিত মেধাবী কলেজ ছাত্র করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সম্মান(রাষ্ট্রবিজ্ঞান)প্রথম বর্ষের ছাত্র মাজহারুল হত্যাকান্ডে ১০দিনে একজনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতোদিনে কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় ধীরে ধীরে ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী।
হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ১৫সেপ্টেম্বর কালিয়ান বাজারে একটি,১৭সেপ্টেম্বর সখীপুর তালতলাচত্বরে একটি,১৮ সেপ্টেম্বর কালিহাতী উপজেলার গান্ধিনা এলাকায় একটি নিয়ে মোট তিনটি মানবন্ধন করেছে মাজহারুলের পরিবার,আত্নীয়-স্বজন,সহপাঠি,কালিয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,লায়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজ স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সখীপুর থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন,হত্যাকারীদের গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। কালিয়ান দক্ষিন দোপা পাড়া মাজহারুলের সামাজিক মসজিদের সভাপতি এসপি তোফায়েল আহমেদ বলেন, পুলিশের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে,অচিরেই পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে বলে আমি আশাবাদী।
উল্লেখ্য, উপজেলার কালিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি মাঠে গত শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ওই এলাকায় বিবাহিত বনাম অবিবাহিতদের মধ্যে একটি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকজন বখাটে খেলা দেখতে আসা এলাকার মেয়েদের নানাভাবে উত্যক্ত করে। এ সময় মাজহারুল তাদের উত্যক্ত করতে নিষেধ করলে ঘটনা স্থলেই দোহানীপাড়ার বখাটে ফরিদ, ইয়ারুল ও তার সহযোগীরা তাকে কিল, ঘুষি মারে।এ ঘটনার সূত্রধরে খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইয়ারুল ইসলাম (১৮), ছাব্বির আহমেদ (১৭) সহ সাত-আট জন মিলে দেশীয় অস্ত্র লোহার রড ও দা দিয়ে মাজহারুলকে বেধড়ক মারধর করে।
এ সময় চিৎকার শুনে তার বাবা ও অন্যান্যরা মাজহারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সখিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত প্রায় একটার দিকে মাজহারুলের মৃত্যু হয়। মাজহারুল কালিয়ান দক্ষিণ পাড়া এলাকার আবদুল মালেক মিয়ার ছেলে এবং সরকারি সা’দত কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় সাত জনের নাম উল্লেখ করে সখীপুর থানায় মামলা দিয়েছে নিহতের বাবা আবদুল মালেক মিয়া।
