• শুক্র. মে ১st, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

লাখো মানুষের আহাজারি ও চোখের জ্বলে পিতার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কামাল ইবনে ইউসুফ

ডিসে. 12, 2020

লাখো মানুষের আহাজারি, মাতম ও চোঁখের জ্বলের মধ্য দিয়ে শহরের রাজেন্দ্র কলেজের সুবিশাল মাঠে জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের। এরপর শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় কমলাপুরস্থ ময়েজমঞ্জিলে তাঁর পিতা চৌধুরী ইউসুফ আলী মোহন মিয়ার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। শেষবারের মতো তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দুরদুরান্ত হতে মানুষ ছুটে আসেন।

আজ শুক্রবার বাদ জুমা দুপুর সোয়া দুইটার দিকে রাজেন্দ্র কলেজ ময়দানে একটি হিমবাহী গাড়িতে করে ‘ময়েজমঞ্জিল’ হতে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মরদেহ আনা হয়। এসময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাযায় অংশ নিতে ফরিদপুর ছাড়াও দুরদুরান্ত হতে মানুষ ছুটে আসেন। বেলা ৩টার দিকে শহরের চকবাজার জামে মসজিদের খতিব ও সামমুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মাওলানা কামরুজ্জামানের ইমামতিতে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রিয় নেতার দাফন কার্যে অংশ নিতে আগত জনতার পদচারণায় এসময় সেখানে তিল ধারণের ঠাই ছিল না ।

জানাযাপূর্ব সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন পরিবারের পক্ষ হতে মরহুমের জেষ্ঠ্য মেয়ে চৌধুরী নায়াব ইবনে ইউসুফ, শরিয়তপুরের বাহাদুরপুর দরবার শরীফের প্রতিনিধি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ হানজেলা, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, এফবিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি শিল্পপতি এ কে আজাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু, ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা, অধ্যাপক এবিএম সাত্তার, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সহ-সভাপতি মাহবুবুল হাসান ভুঁইয়া পিংকু। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তাগণ সাবেক এই জনপ্রিয় রাজনীতিবীদ ও সংসদ সদস্য চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তিনি ছিলেন প্রকৃতই একজন সজ্জন চরিত্রের জননেতা। তাঁর প্রতিপক্ষ বা রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধেও তিনি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করতেন না। তিনি পাঁচবার ফরিদপুর সদর আসন হতে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। বিএনপি যতোবার সরকার গঠন করেছে ততোবারই তিনি মন্ত্রী হয়েছেন।
চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের জেষ্ঠ্য মেয়ে চৌধুরী নায়াব ইবনে ইউসুফ জানাযাপূর্ব তাঁর আবেগঘণ ও কান্নাজড়িত বক্তব্যে তাঁর পিতার জন্য সকলের কাছে দোয়া চান। জানাযায় অংশ নিতে দুরদুরান্ত হতে ছুটে আসা সকলের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আমার পিতা ও পূর্ব পুরুষেরা যেভাবে আপনাদের সুখে-দুঃখে আপনাদের পাশে থেকেছেন, ইনশাআল্লাহ আগামীতেও আমি সেভাবে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো।
জানাযার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ হতে মরহুমের কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জানাযা শেষে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রাজেন্দ্র কলেজ ময়দান হতে তাঁর লাশ ‘ময়েজমঞ্জিলে’ নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁকে দাফন করা হয় পিতা ইউসুফ আলী চৌধুরী মোহন মিয়ার কবরের পাশে।
উল্লেখ্য গত ৮ ডিসেম্বর ঢাকার ‘এভার কেয়ার’ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে গোটা ফরিদপুর জেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
১৯৪০ সালের ২৩ মে তিনি ফরিদপুর জেলার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূবপুরুষ ফরিদপুরের জনমানুষের রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে জনসেবার উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফও একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবীদ হিসেবে আমৃত্যু মানুষের পাশে থেকেছেন। তাঁর বিদায় বেলায় লাখো মানুষ তাঁর এই অবদানের প্রতি শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে আসেন।
আমি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং দোয়া করি রাব্বুল আলামীন যেন আমাদের প্রিয় এই মানুষটাকে তার আরশে আজিমের ছায়াতলে স্থান দান করেন। তার শোকাহত স্বজনেরা যাতে দ্রুত এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেন। আমিন।।
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments