
মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, স্বাধীনতার মহানায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষে ফরিপুরে মহান বিজয় দিবসে ব্যতিক্রমী আয়োজন শত সহস্র কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনসহ নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে নয় টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত মুজিববর্ষ মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়। এই ক্ষণটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সময় শত সহস্র কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এতে দেশ ও প্রবাস থেকে ১ লক্ষ ২১ হাজার লোক অংশগ্রহনের জন্য রেজিস্টেশন করে। এছাড়া সহস্রাধিক মানুষ সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাসের এর প্রাদুর্ভাবের কারনে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের পরিকল্পনায় জেলায় বিজয় দিবস উদযাপনে শত সহস্র কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এতে অনলাইনের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশনের ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসন। এছাড়া ওয়েবসাইট, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশে এবং প্রবাসে অবস্থানরত ফরিদপুরের সকল নাগরিককে তাঁর নিজ নিজ অবস্থান থেকে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানান জেলা প্রশাসন। সেখানে ১৪ই ডিসেম্বরের মধ্যে এক লক্ষ মানুষ রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেন এবং মহান বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে ১ লক্ষ ২১ হাজার মানুষ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। তিনি বলেন, আজ ১৬ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙ্গালী জাতির সর্বাধিক গৌরব অর্জনের দিন। বিজয়ের এই দিনে আমি স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ ইজ্জত হারানো মা-বোনকে। তিনি এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশনায় অংশগ্রহণকৃত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করেন। এরপর শান্তির প্রতিক কবুতর ও বেলুন উড়ানো হয়। এর আগে শহরের গোয়ালচামটস্ত শহীদ স্মৃতিফলকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অতপর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের গণকবরে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সকাল ১১.০০ টায় অনলাইনে জুম অ্যাপের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সবোর্ত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দীপক রায়। আলোচনা সভায় পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান, আওয়ামীলীগ সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক প্রফেসর মোঃ শাহজাহান,সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশার্রফ আলী, সরকারি ইয়াছিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শীলা রানী মন্ডল, সদ্য নির্বাচিত পৌর মেয়র অমিতাব বোস, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক রেজভী জামান, শিক্ষক জয়নাল আবেদীন প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন। সন্ধ্যা ৬.০০ টায় অনলাইনে জুম অ্যাপের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষ্যে বাদ যোহর সকল মসজিদে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও গুজব বিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে জনমত সৃষ্টির জন্য আলোচনা ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে আলোচনা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ-আত্মদানকারী-যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন মসজিদে দোয়- মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৩ টায় অনলাইনে জুম অ্যাপের মাধ্যমে মহিলাদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
দিনব্যাপী শেখ রাসেল শিশুপাকসহ অন্যান্য সকল শিশু পার্কে বিনা টিকিটে শিশুদের জন্য শিশুপার্ক সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রাখা এবং প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও গুজব বিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে জনমত সৃষ্টির জন্য আলোচনা ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে আলোচনা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ-আত্মদানকারী-যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মন্দির গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা করা হচ্ছে। হাসপাতাল, জেলখানা, শান্তিনিবাস, এতিমখানা ও শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।
