দুর্নীতি ও ভূমিদস্যু চক্রের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ
বাকলিয়া বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌঃ রিয়াজুল হকের অপসারণ দাবী
চট্টগ্রাম ব্যুরো// নগরীর বাকলিয়া বিদ্যুৎ অফিসের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজুল হকসহ কতিপয় কতিপয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, গ্রাহক হয়রানী স্থানীয় ভূমিদস্যু ও মাদক কারবারী চক্রের সাথে অনৈতিক সম্পৃক্তার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকগণ। উক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা রিয়াজুল হককে বাকলিয়া বিদ্যুৎ অফিস থেকে অপসারণপূর্বক ওএসডি করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তবোগী অধিবাসীগণ। স্তানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহক সমাজ অবিযোগ করেন- রক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে উক্ত নির্বাহী প্রেকৌঃ রিয়াজুলহকসহ কতিপয় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও লাইনম্যান পরষ্পর অনৈতিক যোগসাজসে নিরিহ মানুষের বসত-ভিটা ও ভূমির মূল মালিকের অজ্ঞাতে ভূমিদস্যু চক্রের নীল নক্সানুযায়ী জালজালিয়তির মাধ্যমে মূল মালিকের হোল্ডিং-এ মূল মালিকের নামে পূর্ব সংযোগসৃজিত বিরাজমান সচল ও সক্রিয় মিটারের তথ্য-উপাত্ত গোপন ও আড়ালে রেখে ভূমিদস্যু চক্রকে মালিক সাজিয়ে অবৈধভাবে আরেকটি বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট বসত-ভিটা, দোকানঘর ও ভূমিটি দখলে নেওয়ার একটি বিতর্কিত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মাধ্যমে একটি সাংঘর্ষিক বে-আইনী ক্ষেত্র ভূমিদস্যুচক্রকে প্রস্তুত করে দিতে মধ্যসত্বভোগী এবং অনৈতিক সাহায্যকারী হিসাবে কাজ করছে উক্ত নির্বাহী প্রকৌঃ রিয়াজুল হকসহ এক শ্রেণির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও লাইনম্যানচক্র। জানা যায়, গত ২৯ ও ৩০ মার্চ ২০২২ ইং তারিখে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের হয়রানী ও দুর্নীতির শিকার বিদ্যুৎ গ্রাহকগণ একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে বাকলিয়াস্থ বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রেকৌশলী রিয়াজুল হক এর সাথে সাক্ষাত করতে গেলে রহস্যজনক কারণে উক্ত রিয়াজুল হক তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন! এবং সরাসরি অভিযুক্ত ভূমিদস্যু চক্রের পক্ষাবলম্বন করেন বার বার। শুধু তাই নয়, হয়রানীর শিকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সাথে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অশালীন ও স্বেচ্চাচারীতামূলক আচরণ করেন। যার পুরো ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এমনকি উনি অভিযোগকারীদের কোন কাগজপত্র দেখবেন না মর্মে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকগণ। স্থানীয় ৮/১০ জন অধিবাসী ও বিদ্যুৎ গ্রাহক এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মচারী জানিয়েছেন অত্র অভিযোগের সচিত্র সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরে অভিযুক্ত অবৈধ বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ গ্রহণকারী সালাউদ্দিন গত ২৯ মার্চ সকালে অফিসের ২ জন কর্মকর্তার মাধ্যমে ২/৩ জায়গা থেকে টেলিফোনিক তদবিরের মাধ্যমে উক্ত রিয়াজুল হককে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটারটির সংযোগ বিচ্ছন্ন না করতে মোটা এক লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে যায়। এমনকি স্থানীয় অধিবাসীরা উক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজুল হকের বিরুদ্ধে গত দুই বছরে ব্যাটারীর রিক্সার গ্যারেজ হতে মাসিক মাসোহারা ভিত্তিক ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি, গ্রাহক হয়রানীর অভিযোগ করেছেন। বাকলিয়া বিদ্যুৎ বিভাগের উক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজুল হকের ভূুমদস্যু চক্রের সাথে সম্পৃক্ততা, দুর্নীতি, অনিয়ম , ঘুষ বাণিজ্য বিরুরদ্ধ দিন দিন ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী। যেকোন মুহুর্তে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সয়ঘর্ষসহ নানা অপ্রিতিকর ঘটনা। গ্রাহক হয়রানী অভিযোগে গত তিন দশক ধরে বাকলিয়া বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেছে এলাকাবসী বহুবার। দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর বিদ্যুৎ কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ইতিপূর্বে হয়রানীর শিকার সংক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী কর্তৃক হামলার ঘটনাও ঘটেছে বহুবার। সাম্প্রতিক সময়েও বাকলিয়ার বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানী বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। সংক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী বিদ্যুৎ অফিস রমজান মাসে ঘেরাওসহ মানববন্ধনের কর্মসূুচ দিয়েছে। বাকলিয়াবাসী অবিলম্বে উক্ত দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, গ্রাহক হয়রানী ও অনিয়মের হোতা ভূমিদস্যু চক্রের সাথে অনৈতিক যোগসাজকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজুল হকের অবিলম্বে অপসারণ দাবী করছেন । অন্যতায়, ভূক্তভোগী অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর উক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাজপথে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণায় বাধ্য হবেন বলে হুশিয়ারী করেছেন।ভূক্তভোগী এক গ্রাহকের অভিযোগে জানা যায়, এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু চক্রের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ভিকটিমের বাড়ায় লাগিয়ত একটি টম টম রিক্সার গ্যারেজ ও বসত-ভিটা দখল করার কুমানসে মাদক কারবারী সেলিম স্থানীয় চিনতাইকারী, ভূমিদস্যু মাদককারবারী ছিনতাইকারী সালাউদ্দিনসহ বাকলিয়া বিদ্যুৎ অফিসের উক্ত চক্রটির পরষ্পর অনৈতিক যোগসাজসে সকল সত্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মূল মালিকের অগোচরে ২০১৩ সালে সচল আলমগীর নূর নামীয় হোল্ডিং নাম্বার- ৩৪৩৭/এ, বিদ্যুৎ মিটার নং- ১০৩৫৭৭৫১ বাউন্ডারীর বাহিরে মিটারটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে সালাউদ্দিনকে মিথ্যা মালিক সাজিয়ে পূর্ব মিটারের স্থলে অবৈধভাবে আরেকটি বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ সৃজন করে ভিকটিমের উক্ত গ্যারেজ ও বসত-ভিটা জবর দখল করার অপচেষ্টা করিতেছে । উক্ত বিষয়ে অবগতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানিত উপদেষ্টা, পাওয়ার ডিভিশন ভবন, চেয়ারম্যান-দুর্নীতি দমন কমিশন, পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন-চট্টগ্রাম, চেয়ারম্যান-বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলাপমেন্ট বোর্ড-মতিঝিল, প্রধান পরিদর্শক ও উপদেষ্টা (বিদ্যুৎ) এর কার্যালয়, তোপখানা রোড, ঢাকা। এবং প্রধান প্রকৌশলী, ডিষ্ট্রিবিউশন সাউদার্ন জোন, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলাপমেন্ট বোড, বিদ্যুৎ ভবন, শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম-৪১০০ বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভূক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহক সমাজ।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, বাকলিয়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তাসহ মিটার রিডার সরোয়ার, লাইনম্যান মিজান, রমজার আলী, (এস.বি.এস.) লাইনম্যান হারুন, ভূমিদস্যু চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহক। চাকরির মুখোশে উক্ত বিদ্যুৎ এর কর্মচারি, লাইনম্যান চক্রটি পেশাগত দায়িত্বের আড়ালে এখন স্থানীয় ভূমিদস্যু চক্রের সক্রিয় সদস্য মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ যেন, শর্ষের ভিতরে ভূত! যা বাকলিয়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নিরহ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সাথে এক অভিনব প্রতারণা। এমনিতেই বাকলিয়ার বিদ্যুৎ অফিসের নানাবিধ গ্রাহক হয়রানী, মিটার রিডিং চুরি, ভৌতিক বিল ইস্যু, ব্যাপক দুর্নীতির খবর সবসময় পত্রিকার শিরোনাম হয়। রক্ষক যখন ভক্ষক! সাম্প্রতিকালে, বাকলিয়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের এক অভিনব ও ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। উক্ত প্রতারণার অভিযোগে ২০১৩ ইং সালের পর থেকে এই পর্যন্ত বাকলিয়া বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী-লাইনম্যানদের বিরুদ্ধে বারংবার লিখিত অভিযোগ, উকিল নোটিশ, বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন আদালত, চট্টগ্রামে সাধারণ ডায়েরীও করা হয়েছে । বিদ্যুৎ গ্রাহকের সাথে প্রতারণার জেরে অত্র অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও লাইনম্যান, মিটার রিডার এর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন মর্মে অভিযোগ করেছেন ভুক্তিভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহক আলমগীর নূর। গত ২৩ মার্চ, ২০২২ ইং তারিখে চট্টগ্রামের আগ্রাবাস্থ বিদ্যুৎ জোনের প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে ভিকটিমের লিখিত একটি অেিযাগের প্রেক্ষিতে জানা যায় বাকলিয়া বিদ্যুৎ বিবাগের ভয়াবহ ও অভিনব এই দুর্নীতির বিষয়ে।


