
মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের নগরকান্দায় নবজাতক জন্মের খবর পেলেই তার বাড়িতে উপহার আর মিষ্টি নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন ইউএনও মো. মঈনুল হক। বাড়িতে হাজির হয়ে নতুন অতিথি নবজাতকদের উপজেলার নাগরিক (সিটিজেন) হিসেবে বরণ করে নিয়ে তাদের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিচ্ছেন মিষ্টি ও উপহারের প্যাকেট। সেই সঙ্গে বাড়ির ওঠানে বসেই নবজাতকদের জন্মসনদ তৈরি করে দেন।
জন্মনিবন্ধন সংশ্লিষ্ট সকলকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার কাইচাইল ও পুরাপাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে ঘুরে ৪১ জন নবজাতককে জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দেন ইউএনও। এরআগে গত শুক্রবার থেকে ব্যতিক্রমী এই কর্মসূচি পালন শুরু করেন তিনি। তার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নবজাতকদের পরিবারসহ স্থানীয়রা।
উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের সুতেরকান্দা গ্রামের যমজ নবজাতক হাসান-হোসেনের বাবা মামুন মিয়া ও মা মুক্তা বেগম বলেন, আমরা প্রথম দুটি যমজ সন্তানের বাবা-মা হয়েছি। নতুন অতিথিদের আগমনে বাড়িতে আনন্দ বইছে। এরই মধ্যে হঠাৎ করে ইউএনও স্যার বাড়িতে এসে উপহার আর মিষ্টি হাতে ধরিয়ে দেন। সেই সাথে সন্তাদের জন্মনিবন্ধনও করে দিয়ে গেলেন। এতে আমাদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ লাগছে।
আফনানের মা মেঘলা বলেন, আগে জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গিয়ে ঝামেলায় পড়া লাগতো। এখন সন্তানের জন্মের পর স্যার মিষ্টি ও উপহার নিয়ে বাড়িতে এসে নিজেই জন্মনিবন্ধন করে দিয়ে গেলেন। এটা সত্যিই অবাক করেছে আমাদের। মনিরুলের মা মনিকা বেগম বলেন, আমার শিশু সন্তানের জন্য স্যার মিষ্টি ও উপহার নিয়ে এসেছেন। আমাদের জন্য এটি পরম পাওয়া। স্যারকে ধন্যবাদ।
কাইচাইল ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা হোসেন খান বলেন, আমি দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আমার জীবনে কোনো ইউএনওকে এমন উদ্যোগ নিতে দেখিনি। তার এই উদ্যোগকে জনসাধারন স্বাগত জানিয়েছেন।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈনুল হক বলেন, ৪৫ দিনের মধ্যে শিশুদের জন্মনিবন্ধন করা আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নবজাতক যখন ভুমিষ্ঠ হয় তখন তার অভিভাবকদের মধ্যে জন্মনিবন্ধন করার বিষয়ে উদাশুন্য ও শৈথিল্যভাব দেখা যায়। কারো কারো অনীহা প্রকাশ পায়। সে জন্য নবজাতকের জন্ম নেওয়ার পরপর আমরা মিষ্টি ও উপহার নিয়ে তার বাড়িতে চলে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দেই। যাতে করে কাউকে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় গিয়ে ঝামেলা পোহাতে না হয়।
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
