
মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া গ্রামের গ্রাম্য দুদলের দফায় দফায় সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বুধবার সকালে ইউসুফদিয়ার ফসলি মাঠে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা পিঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট হয়। স্থানীয়রা জানান, ইউসুফদিয়া গ্রামের গ্রাম্য মাতুব্বর মোঃ এনায়েতের সমর্থকদের সাথে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ ওহিদুজ্জামানের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে কোন্দল চলছিল। এরই সুত্র ধরে গতকাল ১৮ ফ্রেরুয়ারী রাত ৮ টা দিকে এনায়েত সমর্থক মোঃ নুর আলম ও লিটনের সাথে সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামানের চাচাতো ভাই শাহিন মোল্যার সাথে ইউসুফদিয়া বাজারে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। সেই খবর দুদলের মধ্যে ছড়িয়ে গেলে দুপক্ষ দুপাশে জমায়েত হয়।
পরে সালথা থানার পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গতকালের ওই রেশ ধরে আজ বুধবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র, ঢাল, সরকি, রামদা, ছেনদা, ইট, পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় ২ ঘন্টা ব্যাপি এই সংঘর্ষের জমায়েত কালে ইট পাটকেলে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতদের ফরিদপুরের সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মোঃ এনায়েত হোসেন বলেন, ইউসুফদিয়া গ্রামের মোঃ বিলায়েত টুকু আমার দলে মিশায় তাকে ইউসুফদিয়া বাজারে ওহিদ চেয়ারম্যানের চাচতো ভাই শাহিন মোল্যা কুটক্তি করে কথা বললে, প্রতিবাদ করেন তারই ছেলে লিটন। এই প্রতিবাদ করাতে তাদের লোকজন আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এরই সুত্র ধরে সংঘর্ষ।
এনায়েতের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান বলেন, বিএনপির এনায়েত ও তার ভাই হেমায়েত হোসেন (হিরন), এখন আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। ওদরে লোকজন সবসময়ই উগ্র আমার লোকদের দেখলেই বিভিন্ন আজেবাজে কথা বলে। গতকাল ইউসুফদিয়া বাজারে আমার চাচাতো ভাই শাহিন বসা ছিলো হঠাৎ এনায়েতের লোকজন শাহিনের উপর হামলা করে। খবর পেয়ে আমার লোকজন জমায়েত হয়।
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এলাকা এখন শান্ত রয়েছে, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
