
মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর, আটঘর ও ভাওয়াল ইউনিয়নের মাঝে দিয়ে প্রবাহিত মাটিদহ নদে চলতি বোরো মৌসুমে শুরু হয়েছে ইরি ধানের আবাদ। নদীর পানি কমে গিয়ে জেগে ওঠা চরে স্থানীয় কৃষকরা এ ধান চাষ করছেন।
এছাড়া উপজেলার খাল-বিলে এবার বোরো ধান চাষ শুরু হয়েছে। জলমগ্ন এই জমিতে চাষের কারণে কৃষকরা কম খরচে ভালো উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন। নদীর পানি কমে যাওয়ায় ধান লাগানোর পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎপাদন বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুষ্ক মৌসুমে কুমার নদের বিস্তীর্ণ অংশ পানিশূন্য হয়ে পড়ে থাকে। এসব স্থানে কৃষকরা ইরি ধানের চারা রোপণ করেছেন।আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষক সিরাজ মোল্যা জানান, মূলত বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি থাকে। আবার নদী তার আপন সত্তা হারিয়ে শুকিয়ে যায়। নদীর বুকে সাফল্যজনকভাবে চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষ করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নিজস্ব জমির পাশেই নদীর জেগে ওঠা জায়গা রয়েছে। সেখানে ধান চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বেশি জমিতে চাষ করা সম্ভব হবে।
আরেক কৃষক ফজলুল হক বলেন, নদীর জমিতে চাষ করতে খরচ তুলনামূলক কম। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে ভালো লাভের আশা করছি।
স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, বিলে ধান চাষের কারণে আগে যেমন পানির সমস্যা থাকত, এখন তা নেই। কম খরচে ভালো ফসল পাওয়া যাচ্ছে, যা আমাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদের জেগে ওঠা এসব জমি আগে অনাবাদি থাকলেও বর্তমানে কৃষকরা তা চাষাবাদের আওতায় আনছেন। এতে একদিকে যেমন পতিত জমি কাজে লাগছে, অন্যদিকে ধান উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন শিকদার বলেন, সালথায় মোট ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। বিভিন্ন খাল বিল এর পানি শুকিয়ে যাওযায় স্বল্প খরচে কৃষক ধান আবাদ করছে, জমির সুষ্ট ব্যবহার নিশ্চিতে কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।
২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
