
রাজিউল হাসান পলাশ: সাভারের রেডিও কলেনি এলাকার বাসিন্দা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বিকাশ ইসলাম (২১) তার ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নদীতে লাফ দিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বংশী নদীতে তল্লাশী চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এরআগে রোববার রাত ১০টার দিকে সাভারের নামাবাজার বংশী নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল এই কলেজ ছাত্র।
বিকাশ ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার আমান উল্লাহর ছেলে। সে রেডিওকলোনি এলাকায় মোকছেদ মিয়ার বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষে লেখাপড়া করত।
পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বিবিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বিকাশ ইসলাম রোববার রাত ৮টার দিকে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বংশী নদীর উপরে ব্রীজ থেকে পড়ে নিখোঁজ হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল বংশ নদীতে তল্লাশী করে সোমবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, রেডিওকলোনি এলাকা থেকে রোববার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় বিকাশ। পরে তার জুতা সাভারের নামাবাজার এলাকার বংশী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। সেই জুতা দেখেই বিকাশ ইসলাম নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে বলে নিশ্চিত হয় স্বজনরা। পরে তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেখে পুরোপুরি নিশ্চিত হয় স্বজনরা।
ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছিলেন, “কৃতজ্ঞতা জানাই আমার পরিবার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও আমার প্রিয় মানুষটাকে। আমার কারো প্রতি কোনো ক্ষোভ রাগ অভিমান নাই। যা করেছি বাস্তবতার সাথে তাল না মেলাতে পারার জন্যই করেছি। আমি হেরে গেছি আমি ব্যর্থ। অনেক ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করে বাবা-মার সেবা-যত্ন করার। কিন্তু বাস্তবতা আসলেই কঠিন যা অনেকে মেনে নিতে পারে, আবার অনেকে পারেনা। আমি না পারার দলেই পড়লাম। মা পারলে মাফ করে দিও।”
সাভার ফায়ার সার্ভিসের কর্তব্যরত কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, বিকাশ ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এফএম সায়েদ বলেন, কি কারণে ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নদীতে পড়ে আত্মহত্যা করেছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
