
জীবনে সফল হবার জন্য কাউকে ফলো করার দরকার নাই। সফলতার গল্প শুনতে কার না ভালো লাগে?কিন্তু ব্যর্থতার গল্প শুধুই গ্লানি বাড়ায়।সফলতার গল্প শুনে হয়তো অনুপ্রাণিত হওয়া যায়। তবে বাস্তব সত্য কথা হলো, প্রত্যেকটা সফল মানুষের সফলতার পথ ভিন্ন ভিন্ন।নিজের সফলতার পথ নিজেকেই খুঁজে বের করে নিতে হয়।এটাই বরং শ্রেয়।তাহলে যারা ব্যর্থ হয় তাদের কী চেষ্টায় ত্রুটি থাকে।না! কখনোই না।এটা হলো প্রকৃতির সীমাবদ্ধতা। তাদের জন্য উপরওয়ালার প্লান অন্যরকম। নেলসন ম্যান্ডেলার একটি কথা খুব মনে পড়ে।সেটি হলো,”মানুষ কখনোই ব্যর্থ হয় না,হয় সে জিতবে নাহলে শিখবে।”সফলতার শিক্ষা সাময়িক কিন্তু ব্যর্থতার শিক্ষা মানুষের সারা জীবন কাজে লাগে।
প্রতিযোগিতার এই যুগে এখন আর শুধু হার্ডওয়ার্কস দিয়ে টেকা খুব কঠিন। টিকে থাকতে এখন হার্ডওয়ার্কসের সাথে সাথে স্মার্টওয়ার্কসটাও খুব প্রয়োজন। আপনার আশেপাশেই আছে স্মার্টওয়ার্কসের সব উপকরণ। শুধু একটু কষ্ট করে খুঁজে নিতে হবে আরকি। এমন কিছু করতে হবে যেটা সহজে কেউ কপি করতে না পারবে না। আর যখন কেউ সেটা কপি করতে শুরু করবে তখন আগের আইডিয়া ড্রপ করে নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করেন। বিল গেটসের একটি কথা এখানে বলতে ইচ্ছা করছে,”আমাদের জন্য সফলতার প্রথম মূলমন্ত্র হলো, সব সময় খুব চৌকস ব্যক্তিদেরই কাজে নিয়ে আসুন। আমরা যদি উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ করে পূর্ণগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে না পারি, তাহলে পেছনে পড়ে থাকাটাই হবে অনিবার্য পরিণতি। আমি কঠিন কাজের জন্য একজন অলস ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করি। কারণ, একজন অলস ব্যক্তিই কাজটি সম্পন্ন করার সহজ উপায় খুঁজে পান।”কথাটি দিয়ে বিল গেটস একবারও হার্ডওয়ার্কের কথা বলেন নি,বরং তিনি স্মার্টওয়ার্কের দিকই ইঙ্গিত করেছেন।আমি কোন দলে?সে বিচার আমি করছি না। সময়ই বড় বিচারক।
বিসিএস একটা প্যাশনের নাম। একটা ডেডিকেশনের মন্দির। আস্হা ও ভরসার ফিনিক্স পাখি। বাংলাদেশের সবচেয়ে ফেয়ার একটা নিয়োগ প্রক্রিয়া। এখানে আপনি ভালো কাজের জন্য যেমন প্রশংসা কুড়াঁবেন, অনেক সম্মান পাবেন তেমনি মন্দ কাজের জন্য হবেন নিন্দিত। ভালোবাসা যেমন পাবেন তেমনি ঘৃণাও হতে পারে সঙ্গী। আমার বিসিএস আসার পিছনের গল্পটা নিজের আত্মসম্মানবেধ বাঁচানোর তাগিদ থেকেই। তবে কোনো রকম না পড়েই বিসিএস এ অমুক ক্যাডার তমুক ক্যাডার এসব গাল-গল্পে বিশ্বাস করবেন। না পড়ে বিসিএস হওয়াটা মনে হয় এতো সহজ না।
যারা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করছেন বলে বিসিএস এর প্রিপারেশন নিতে ভয় পাচ্ছেন কিংবা বিসিএস এ হবে কিনা এ নিয়ে সন্দিহান, আমার কথাগুলো তাদের জন্যই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করেই চাকুরীতে ঢুকে পড়ি।কোম্পানির নাম এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। মাস শেষে বেতন একদম খারাপ ছিলো না। কিন্ত সময়ের সাথে সাথেই কাজের প্রেশার বাড়তে লাগলো,কাজের ডাইভারসিটি বাড়তে লাগলো। আর সম্মানবোধের জায়গাটা কমতে লাগলো। একটু এদিক সেদিক হলেই নানান কটু কথা শুনতে হতো। এতো হিউমিলেশন মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বেশ কয়েকবার চাকুরী পরিবর্তনের চিন্তাও মাথায় এসেছিলো। কিন্তু ঘুরেফিরে পুরো ফার্মা ইন্ডাস্ট্রির চিত্র একই রকম। তারপরও এখনো অনেকে টিকে আছেন। তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত মতামত। আমি হয়তো কাজের পরিধি বিবিচনায় আরেকটু সম্মানিত হতে চেয়েছিলাম। যাই হোক,৩৭ তম বিসিএস আমার প্রথম বিসিএস। এতো দ্রুত রিটেন আর ভাইবা দিয়েছিলাম যে কিছু বুঝে উঠার আগেই সব শেষ হয়ে গিয়েছিলো। প্রথম বিসিএস থেকে ইমিগ্রেশন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তর এর সহকারী পরিচালক হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছিলাম। ৩৮তম বিসিএস আমার দ্বিতীয় বিসিএস।এবার প্রশাসন ক্যাডারে ৯১তম হলাম। দুই বিসিএস পরীক্ষার সময়ই আমি প্রাইভেট কোম্পানিতে ছিলাম বলে সকল প্রস্তুতি একইভাবে নিয়েছিলাম। যদি কারো আমার কথাগুলো কাজে লাগে তবে নিজেকে ধন্য মনে করবো।
প্রিলি দিয়েই শুরু করি।পড়ার সুযোগ কম ছিলো বলে এক মিনিটও সময় নষ্ট করতাম না। বিসিএস এর কোনো কোচিং এ পা বাড়ানোর সাহসও করতে পারি নাই। বাসাতেই এমসিকিউ এবং লিখিত মডেল টেস্ট দিয়ছি একা একা। খাতা দেখার ভার ছিলো আমার স্ত্রীর উপর। এজন্য সবসময় অপটিমাম লেভেলে চিন্তা করতাম আর খুব প্রিসাইজলি পড়তাম। প্রিলিতে বাংলা, ইংরেজি, ম্যাথ, মেন্টাল এবিলিটি আর সুশাসন এর জন্য শুধু এ্যাসিউরেন্স ডাইজেস্ট পড়েছি।অন্যদিকে, বাংলাদেশ আর আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর জন্য এমপিথ্রি পড়েছিলাম।অন্যদিকে,কম্পিউটার এর জন্য ইজি কম্পিউটার বইটি পড়েছিলাম। সাথে ছিল কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স।প্রথম দিকে ৫ দিন(রবি থেকে বৃহস্পতি) এক সাবজেক্ট পড়তাম আর ২দিন(শুক্র থেকে শনিবার) অন্য সাবজেক্ট পড়তাম।প্রতিদিন আনুমানিক ৬ টায় ঘুম থেকে উঠে ৭টা পর্যন্ত পড়তাম। এরপর অফিসের উদ্দেশে রওনা হতাম।অফিসের গাড়িতে উঠেই পড়তে বসতাম। অফিসে যাওয়ার পর কম্পিউটারে সফটকপি অথবা মোবাইলে তোলা ছবি থেকে পড়াশুনা করতাম।যেদিন অফিসে কাজ কম থাকতো কিংবা বস না থাকতো আর অফিসের মিটিং রুম খালি থাকতো সেদিন মিটিং রুমে চলে যেতাম পড়তে। বিকেলে অফিস থেকে ফেরার পথেও বই থাকতো সাথে।একটা বিষয় বলে রাখা ভালো,আপনি যত পড়বেন তত বেশি ভুলবেন। তাই আগের পড়া ভুলে গেছেন বলে মন খারাপ করা যাবে না।
সিলেবাস থেকে একটা অভারঅল গ্রস আইডিয়া নেয়ার পর অন্যভাবে পড়ার রুটিন পরিবর্তন করলাম। প্রতিদিন রাতে ম্যাথ আর বিজ্ঞান পড়তাম। অন্যান্য সাবজেক্ট গুলোর ক্ষেত্রে শুক্রবার বাংলা, শনিবার ইংরেজি, রবি সোম বাংলাদেশ বিষয়াবলী, মঙ্গল বুধ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী পড়তাম এবং বৃহস্পতিবার অন্যান্য টপিকগুলো পড়তাম। প্রিলির আগে এক সপ্তাহ শুধু বিগত বছরের প্রশ্ন ব্যাখ্যা সহ খুব ভালো মতো পড়েছিলাম আর যে প্রশ্নের উত্তরটা পারতাম না সেটা খাতায় লিখে ফেলতাম। পরীক্ষার আগের দিন এই খাতাটাই ওলট পালট করে দেখেছিলাম।এই পড়াটা খুব কাজে দিয়েছিলো। এভাবে পড়েই প্রিলি পাস করলাম।
এবার রিটেনের পালা। রিটেন হলো বিসিএস এর আসল খেলা। রিটেনে যারা এগিয়ে থাকে তারাই মূলত শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে বলে আমার মনে হয়। প্রিলি ভালোমতো পড়লে রিটেনের জন্য স্ট্রং একটা ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি হয়। রিটেনও প্রিলির মতো করে রুটিন ফলো করেছিলাম। এভাবেই পুরো সিলেবাসের একটা গ্রস ধারণা তৈরী করলাম। এরপর প্রতিদিনের পড়াতে গানিতিক যুক্তি প্লাস মেন্টাল এবিলিটি রাখতাম আর সেই অন্য একটা সাবজেক্ট থাকতো। আমি শনি রবি সোম বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী পড়তাম, মঙ্গলবার ইংরেজি আর বুধ বৃহস্পতি শুক্র বার বাংলা ও বিজ্ঞান পড়তাম।
এবার বলি কোন সাবজেক্ট কিভাবে পড়তাম।গানিতিক যুক্তি প্লাস মেন্টাল এবিলিটির জন্য ওরাকল গাইড, নবম -দশম শ্রেণীর সাধারণ ও উচ্চতর গণিত বোর্ড বই পড়েছিলাম। বিজ্ঞানের জন্য ওরাকল গাইড আার নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই পড়েছিলাম। বাংলা ও ইংরেজিতে শুধু এ্যাসিউরেন্স লিখিত ডাইজেস্ট। সবার শেষে থাকলো ‘বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী’। সেফল অ্যাসেসমেন্ট গাইড আর কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স। দুইটা বই কেটে জোড়া দিয়ে আমি ৯ টা ভাগ করেছিলাম। যেমন- দুই সাবজেক্টের অর্থ রিলেটেড সব একসাথে, সংবিধান রিলেটেড সব চ্যাপ্টার একসাথে, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রিলেটেড সব একসাথে, পরিবেশগুলো একসাথে ইত্যাদি। এতে সিমিলার টপিকগলো বার বার না পড়ে একবারই পড়া হতো আর সিলেবাসের লেন্থ কমে গিয়েছিল অনেকখানি।
এবার আসি প্রশ্নের উত্তর কিভাবে দিতাম। খুব বেশি বই পড়ার সুযোগ না থাকায় একটু ভয়ে ছিলাম। তাই আমার স্ত্রীর পরামর্শে লেখায় একটু বৈচিত্র্য আনলাম। “কনসেপ্ট ট্রি” নামে প্রশ্নের উত্তর লেখার একটা পদ্ধতি আছে সেটাই ট্রাই করলাম। পদ্ধতিটা হলো প্রশ্নের উত্তরের মেইন বডিতে লেখা অনেক কম থাকবে। উত্তর লেখার শুরুতে পুরো প্রশ্নের উত্তরের সামারির ফ্লোচার্টের মতো একটা প্রেজেন্টেশন থাকবে যাতে পরীক্ষক পুরো উত্তরের ধারনা শুরুতেই পেয়ে যান। এটা করলে আপনার রিভিশন দিতেও অনেক ইজি হবে। এটা হয়তো আমরা অনেকেই করি কিন্তু আমি উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাই করলাম একটু বৈচিত্র্য আনার জন্য। প্রত্যেক উত্তরের শেষে লেখার রেফারেন্সটাও লিখে দিতাম। বলে রাখা ভালো যেই উত্তর মনের ভাষায় লিখতাম সেখানে আবার কখনই মনের ভাষায় রেফারেন্স দিতাম না।
এবার আসি ভাইবার বিষয়ে। ভাইবা হলো মাইন্ড গেম। নার্ভাস আপনি হবেন এটাই স্বাভাবিক। ইনফিরিয়র মানুষ সুপিরিয়রের সামনে গেলে নার্ভাস হবে এটাই নিয়ম। আপনি ভাইবা বোর্ডের স্যারদের ভাইবা নিলে তারও আপনার সামনে নার্ভাস থাকবে। ভাইবা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যত ভালো প্রিপারেশনই থাক না কেন নার্ভাসনেস কাজ করবেই। তাই এটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।নার্ভাসনেস আপনি কোনো কিছুতেই কমাতে পারবেন না যদি না ভাইবা বোর্ডের স্যাররা আপনাকে হেল্প করে। মজার বিষয় হলো, এখনকার স্যাররা মোর ওর লেস সবাই এই বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মন করে। এবার আসি প্রিপারেশন এ। নিজের সম্পর্কে, পরিবারের সম্পর্কে, জেলা, চাকুরী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমসাময়িক বিষয় আর পছন্দক্রম নিয়ে খুব ভালো ধারনা থাকতে হবে। অসমাপ্ত আত্মজীবনী আর কারাগারের রোজনামচা যারা পড়ার সময় পাবেন না তারা এই বইদুটি নিয়ে ছোট ছোট প্রশ্নের উত্তরসহ বাজারে কিছু বই পাওয়া যায়। ট্রাই করতে পারেন যদি বইদুটি পড়ার সময় না থাকে।আমি প্রথমটাই করেছিলাম। আমার প্রথম চয়েজ ছিলো ফরেন অ্যাফেয়ার। কিন্তু ভাইবাতে সব প্রশ্ন বাংলাতে হয়েছিলো আর প্রথম পছন্দ থেকে কোনো প্রশ্ন করা হয় নি। তার কিছু অংশ এখানে তুলে ধরলাম।
চেয়ারম্যান স্যার ছিলেন আবদুল মান্নান স্যার।সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর-
চেঃ টেল মি এব্যাউট ইউর বয়হুড?
আমিঃ উত্তর দিলাম।
চেঃ কেন সরকারি চাকুরীতে আসতে চাও?
আমিঃ বলেছিলাম নিজের ডেভেলপমেন্টের জন্য।আমার কাছে মনে হয় সেফল ডেভেলপমেন্ট ইস ইকুয়ালটু পিপলস ইন্টারেকশন। যত বেশি মানুষের সাথে ইন্টারেকশন হবে আমার সেফল ডেভেলপমেন্ট তত বেশি হবে। এই নলেজ আমি আমার জীবনের সব ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারবো। আমি জীবনে কোনো কাজে ঠকবো না। এর সাথে আরো কিছু বলেছিলাম।
চেঃ গাজীপুর কেন বিখ্যাত?
আমিঃ বলেছিলাম গাজীপুরের আরেক নাম গ্লোরিয়াস গাজীপুর।
চেঃ গাজীপুরের প্রাচীন ইতিহাস, পূর্বনাম, জয়দেব কার নাম, ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা, গাজীপুরের ২ জন কবির নাম?
আমিঃউত্তর দিলাম।
চেঃ স্বভাব কবি কে, তার আরেক নাম কি, তার লেখা বই, ভাওয়াল রাজাদের সাথে তার কি সমস্যা হয়েছিলো?
আমিঃ উত্তর দিলাম।
চেঃ আশরাফুল মাখলুকাত কি? আশরাফুল মাখলুকাত নিয়ে কবিতা লিখেছেন এমন দুজন কবির নাম?
আমিঃ চন্ডিদাস আর কাজী নজরুল ইসলামের নাম বললাম আর তাদের কবিতা বলেছিলাম।স্যার খুব খুশি হয়েছিলেন।(শুনহে মানুষ ভাই আর সাম্য কবিতা বলেছিলাম।)
চেঃ মধ্যুযুগ কত থেকে কত সাল, সাল বিভাজন কিভাবে করলো, অন্ধকার যুগ, অন্ধকার যুগের সাহিত্য রচনার পটভূমি কি ছিলো? লক্ষণসেনকে বৌদ্ধরা পছন্দ করতো না কেন? মুসলমানদের কি নামে ডাকা হতো?
আমিঃ উত্তর দিলাম আমার মতো করে।
চেঃ বাংলাদেশের একজন মহিলা সংসদ সদস্য মধ্যযুগের গান গেয়ে বিখ্যাত হয়েছেন তার নাম কি?
আমিঃ- আমি মমতাজ বলেছিলাম। স্যার বললেন কোন গান?না পারাতে স্যার বললেন বন্ধু যখন বউ লইয়া.. এইটুক বলার পর আমি বাকি গান বললাম।
চেঃ এটা মধ্যযুগের কোন গান?
আমিঃআমার বধূয়া আন বাড়ি যায়..বলেছিলাম। একটু আন্দাজই বলেছিলাম কবির নাম সহ।
চেঃ- বাংলা সাহিত্যে ইংরেজদের অবদান,
অগাস্ট মাসে কোন কোন কবি মারা গেছেন, সম্প্রতি কোন কবি মারা গেছেন, প্রধানমন্ত্রী সেজন্য কেন শোক প্রকাশ করলো?
আমিঃ- উত্তর দিলাম।
এক্সটারনাল-ঃ-ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স কি? কবি আসাদ মান্নানের অবস্হান, কবি আসাদ মান্নান কার কাছ থেকে শপথ নেন?
আমিঃ- উত্তর দিলাম।
এক্সটারনালঃ-বর্তমান চাকুরী, তার স্যালারী, এসিআই এর চেয়াম্যানের নাম কি, ফিরোজা বেগম কে, আসাদ উদ দৌলার সাথে এসিআই চেয়ারম্যান ও ফিরোজা বেগমের সম্পর্ক, ফিরোজা বেগমের গান, বিএনপি কেন আসাদ উদ দৌলাকে নির্বাচন কমিশনে রাখতে চাইলো?
আমিঃ- উত্তর দিলাম।
এক্সটারনালঃ-চায়নার সাথে আমাদের কি কি বিষয়ে কম্পিটিশন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চায়নার অবস্হান, বাংলাদেশে অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি সম্ভব কিনা?
এরপর পরিবার নিয়ে কিছু প্রশ্ন এবং শেষমেশ প্রস্হান।
কিছু কথাঃ-
১.সাহিত্য সমালোচনার জন্য আমি মোহসিনা নাজিলা স্যারের বই পড়েছিলাম।
২.অনুবাদের জন্য সাইফুরস এর একটা বই প্র্যাকটিস করেছিলাম।
৩.ভাইবার জন্য এ্যাসিউরেন্স আর কনফিডেন্সের বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বই, ডেইলি নিউজপেপার,আগের বছরের ভাইবা অভিজ্ঞতা দেখেছিলাম এবং পড়েছিলাম।
৪.কম পড়েন, ভালো জানেন।
৫.কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার স্ত্রীর প্রতি।তিনি আমার অনুপ্রেরণা। আমার উত্তর গুলোর কনসেপ্ট ট্রি তৈরী করে দিয়েছেন।
৬.ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি আমার কলিগ মাজেদ ভাই, কণিকা লিজা এবং আমার রিপোর্টিং বস খলিল স্যারের প্রতি।উনারা আমাকে যথেষ্ট হেল্প করেছেন।
৭.সর্বোপরি, আমার বাবামায়ের প্রতি রইলো সম্মান।তাদের দুআর বরকতেই আমার এই পথচলা।
ধন্যবাদ।
সবাই ভালো থাকবেন।যারা চাকুরী করেন বাসায় এসে কখনোই বলবেন না টায়ার্ড লাগছে।আপনার কথায় আপনার কাছের মানুষের মন খারাপ হতে পারে কারন তারা সারাদিন আপনার জন্য অপেক্ষা করেছে।আর একটা কথা,আপনি আকাশের তারাই হউন না কেন মানুষ তো পা টা মাটিতেই রাখার চেষ্টা করবেন।
লেখকঃ মোঃ ইকবাল হোসাইন
ফার্মেসী বিভাগ (৩৮) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
(৩৮ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ৯১তম)
