
মনির মোল্যা, নিজস্ব প্রতিনিধি:
দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে ফরিদপুরে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়। সুর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলার সকল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৬ টায় শহরের অম্বিকা ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয়। প্রথমে সদর ৩ আসনের এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন। পরে পুলিশ সুপার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসমুহ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসন ছাড়াও পুলিশ বাহিনী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ মনিরুজ্জমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দীপক কুমার রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুম রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ৮.৩০ টায় ফরিদপুর শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে ফরিদপুর জেলার ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশন এর সহযোগিতায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আসলাম মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দীপক কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) জামাল পাশা, লে. কর্নেল মাসুদ পারভেজ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট শামসুল হক ভোলা মাস্টার, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ সুবোল চন্দ্র সাহা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ রাজ্জাক মোল্লা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুম রেজা, পৌর মেয়র অমিতাভ বোস, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশাররফ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পাঁচ কিলোমিটারের অধিক দূরত্বের ম্যারাথনটি ফরিদপুর শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে সকাল ৮.৩০ টায় শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেখ জামাল স্টেডিয়ামে এসে শেষ হয়। ম্যারাথন চলাকালে শহরের বিভিন্ন মোড় ও সড়কের পাশে উৎসবমূখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ম্যারাথনে ফরিদপুরের নানা শ্রেণী পেশার পাঁচ হাজারের অধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন আল আমিন, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন আমির আলী, তৃতীয় স্থান অধিকার করেন সরজিত মন্ডল। এই ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী প্রথম ১০০ জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। জেলা প্রশাসক অতুল সরকার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্ত্বর হতে একটি বর্ণাঢ্য সাইকেল র্যালী শুরু হয়। এতে ২ শতাধিক তরুন অংশ গ্রহণ করে।
বিকেল ৩.৩০ টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মুজিববর্ষ মঞ্চে শতকন্ঠে ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ করা হয়। এতে শিশু ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও তিন শতাধিক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করে। অতঃপর দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিভিন্ন প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ পর্বের সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দীপক কুমার রায়।
বক্তব্য প্রদান করেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সুবল চন্দ্র সাহা, বীরমুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন নূর মোহাম্মদ বাবুল, বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশার্রফ আলী, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজভী জামান, জেলা মহিলা লীগ নেত্রী ঝর্ণা হাসান, নারী নেত্রী আসমা আক্তার মুক্তা প্রমুখ।
এছাড়া দিনের সুবিধাজনক সময়ে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণ ও ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু বিষয়ে আলোচনা সভা, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার, বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন, বাদ যোহর ও সুবিধাজনক সময়ে জেলার সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপসনালয়ে দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সন্ধ্যার পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বর্ণিল আলোক উৎসব শুরু হয়।
